কুমিল্লা নগরীতে পুকুর ভরাট!

কুমিল্লায় সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পুকুর ভরাটের ঘটনায় কোনো সরকারি দফতর থেকে বিরোধিতা হয়নি। পুকুর ভরাট শেষে তার ওপর বাসা-বাড়িও নির্মিত হয়েছে। তখন অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট দফতরের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এদিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন থেকে বলা হয়েছে, পুকুর ভরাট করে কোনো স্থাপনা করা হলে হোল্ডিং নাম্বার, পানি, বিদ্যুত্ বা গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে না। এদিকে গত প্রায় ১৬/১৭ দিন ধরে নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডে বাগিচাগাঁও এলাকায় কুমিল্লার নবাব পরিবারের দেওয়া ওয়াকফ সম্পত্তির একটি পুকুর ভরাট চলছে। সৈয়দ ওসমান হায়দার চৌধুরী বড় জামে মসজিদ এলাকায় এর অবস্থান। প্রায় শত বছর আগে মসজিদ প্রতিষ্ঠার সময় দৈনন্দিন পানি ব্যবহারের জন্য এখানে একটি পুকুর খনন করা হয়েছিল। প্রায় ৫০ শতক আয়তনের পুকুরটির ব্যবহার অনেকটা কমে যায় মসজিদে পাকা অজুখানা থাকায়। এই সুযোগে কিছু প্রভাবশালী ও সুবিধাবাদী লোক মসজিদের পুকুরটির পূর্ব পাড় ঘেঁষে দখল প্রক্রিয়া শুরু করে। বেশ কিছু জায়গা এরই মধ্যে ভরাট করে অস্থায়ীভাবে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পুকুরটি বর্ষায় জলাবদ্ধতা নিরসনে জলাধার হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। সরকারিভাবে এমনিতেই পুকুর, দিঘি বা জলাশয় ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু কে শোনে কার কথা! এভাবেই নগরী থেকে আরো একটি পুকুরের অস্তিত্ব হারিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায়, পুকুর ভরাট বন্ধ করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জোর আবেদন জানাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক