করোনার অজুহাতে কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করার প্রতিবাদ

করোনার অজুহাত দিয়ে দেশের কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করার প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। গতকাল রবিবার চট্টগ্রামের দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের এক বিশেষ জরুরি সভা শেষে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, করোনার অজুহাতে মাদ্রাসা বন্ধের ষড়যন্ত্র দেশের তৌহিদী জনতা কোনো মতেই মেনে নেবে না। করোনা থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, তাসবি পাঠ ও দোয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। সুতরাং আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার জন্য মাদ্রাসা খোলা রাখা সরকারেরই নৈতিক দায়িত্ব বলে হেফাজতে ইসলাম মনে করে।

এক প্রশ্নের উত্তরে আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ইতিমধ্যে দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসায় পরীক্ষা গ্রহণ শেষ হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা মেনে গত বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা ত্যাগ করেছে। আগামী ২৯ মে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন আয়োজন করা হবে।   

সম্প্রতি সোনারগাঁওয়ের একটি রিসোর্টে অবরুদ্ধ হওয়ার পর সঙ্গিনী নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী ঘোষণা দিয়ে তুমুল বিতর্কের জন্ম দেওয়া হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষ নিয়েছে তার সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। কথিত দ্বিতীয় বিয়ে ইস্যুতে মামুনুলকে হেফাজত থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা থাকলেও যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে স্বপদেই বহাল থাকছেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই নেতা। হেফাজতের হাই কমান্ড মনে করছে জান্নাত আরা ঝর্নার সঙ্গে মামুনুলের বিয়ে একান্তই তাদের দুই জনের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাছাড়া এই বিয়ে শরীয়ত সম্মতভাবে হয়েছে বলে তিনি (মামুনুল) দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন। হেফাজত নেতৃবৃন্দের একটি কমিটি যাচাই করে তার এই দাবির সত্যতা পেয়েছে। তাই নিছক দ্বিতীয় বিয়ে করার কারণে মামুনুলের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন দেখছে না হেফাজতের হাই কমান্ড। উপরন্তু রিসোর্টে স্ত্রীসহ নাজেহাল হওয়ার ঘটনায় মাওলানা মামুনুল হক যদি আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তবে তার প্রতি হেফাজতে ইসলামের নৈতিক সমর্থন থাকবে।

গতকালের সভায় মামুনুল ইস্যুতে কোনো আলোচনাই হয়নি বলে ইত্তেফাককে জানান মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। সভা শেষে হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন মামুনুলের বিয়ের বিষয়টি একান্তই তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এই বিয়ে শরীয়ত সম্মতভাবেই হয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের প্রধান উপদেষ্টা আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, নায়েবে আমীর হাফেজ তাজুল ইসলাম, মাওলানা আবদুল আউয়াল, মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া, মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা শোয়াইব জমীরী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী প্রমুখ।