লকডাউনে শিল্পকারখানা খোলা রাখা হতে পারে

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউন শুরু হলেও শিল্পকারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিল্পকারখানা খোলা রাখার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে চিন্তাভাবনা করছে সরকার। গতকাল রবিবার ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক হয়। এতে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম ও নবনির্বাচিত সভাপতি ফারুক হাসান, নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সভাপতি মোহাম্মদ আলী প্রমুখ অংশ নেন।

বৈঠক শেষে বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ইত্তেফাককে বলেন, আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে সম্পূর্ণ লকডাউনের ঘোষণা আসলেও শিল্পকারখানা চলবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আমাদের নিশ্চিত করেছেন। তবে লকডাউনে অন্য সব কিছু বন্ধ থাকবে। মানুষের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ব্যাংক বন্ধ থাকলে আমদানি রপ্তানিতে সমস্যা হবে। এ বিষয়েও পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা  নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

এর আগে গতকাল রবিবার দুপুরে লকডাউনে পোশাক ও বস্ত্র কারখানা খোলা রাখার দাবি জানায় পোশাক খাতের চার সংগঠন। পোশাক কারখানা বন্ধ হলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে বলে দাবি করেছেন তারা। কারখানা বন্ধ হলে শ্রমিকরা গ্রামে ফিরতে গিয়ে উলটো সারা দেশে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করেন তারা। গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে পোশাক খাতের চার সংগঠন। এতে তৈরি পোশাকমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমইএ) ও এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি) এর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, আগামী ১৪ তারিখ থেকে দেশ জুড়ে সপ্তাহব্যাপী লকডাউন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। তবে এই লকডাউন কর্মসূচিতে পোশাক খাতকে বাইরে রাখার আবেদন জানাচ্ছি। তিনি বলেন, গত বছর সাধারণ ছুটি ও পরবর্তী সময় দুই ঈদে শ্রমিকদের আবাসস্থল ত্যাগ করে গ্রামের বাড়ি চলে যাওয়ায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা উপেক্ষা করা যায় না। লকডাউনের প্রথম দিন থেকেই ব্যাপকসংখ্যক শ্রমিক শহর ছাড়তে পারেন। এতে দেশব্যাপী সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে। এই অবস্থায় বস্ত্র ও পোশাক খাত ও সহযোগী খাত লকডাউনের আওতাধীন রাখা হলে দেশব্যাপী সংক্রমণের বিস্তারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। সেই সঙ্গে লকডাউন শেষে এসব শ্রমিক কর্মস্থলে ফিরে আসার ক্ষেত্রেও দেখা দেবে অনিশ্চয়তা। কারখানা বন্ধ হলে দেশের রপ্তানিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দাবি করে আব্দুস সালাম বলেন, আমাদের ক্রয়াদেশগুলো অনেক আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। সেই অনুযায়ী উত্পাদন ও জাহাজীকরণ পূর্ব নির্ধারিত থাকে। তাই এই খাতগুলোতে লকডাউন কার্যকর হলে নতুন করে ক্রয়াদেশ বাতিলসহ নানা বিপর্যয়ের ঝুঁকি রয়েছে। সাপ্লাই চেইন বিপর্যস্ত হলে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ জট, কনটেইনার জট ও অন্যান্য বিপত্তি যুক্ত হবে। পাশাপাশি প্রতিযোগী দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশ বাজার হারাবে।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিকেএমইএ সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান, বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বিটিএমএর সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন, বাংলাদেশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন দাবি করেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কারণে পোশাক শিল্পে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা খুবই কম।