উত্সবে কামিজ

করোনার এই সময়ে উত্সবের আমেজ সেইভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তবে ঈদ উত্সবের পোশাকে যে থাকতেই হবে নতুনত্ব, নজরকাড়া ডিজাইন! মেয়েদের ঈদ ফ্যাশনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ সালোয়ার-কামিজ। ঈদের জমকালো সালোয়ার-কামিজের খবর নিয়ে লিখেছেন

নওশীন শর্মিলী

এবারের ঈদ পোশাকগুলোতে দেখা যাচ্ছে নানা রঙের বাহার। উত্সবের পোশাক হিসেবে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার থাকছে। এবার সাধারণ পোশাকেই ভ্যালু অ্যাডের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে উত্সবের রং। লাল থেকে শুরু করে নীল, সবুজ, হলুদ, বেগুনি, কমলা, মেজেন্ডা থাকছে সব রঙই। একরঙা পোশাকের ফ্যাশন বদলে একই পোশাকে কয়েক রঙের ব্যবহার এখন বেশি জনপ্রিয়। তাই কখনো একরঙা কামিজের বডিতে একই রঙের কয়েকটি শেডের কাজ করা হয়েছে। আবার কখনো দেওয়া হয়েছে সম্পূর্ণ বিপরীত রঙের কাজ। কামিজের কাজের সঙ্গে রং মিলিয়ে করা হয়েছে সালোয়ার ও ওড়নার ডিজাইন। যারা গাঢ় রঙে স্বাচ্ছন্দ্য নন, ফ্যাশন ডিজাইনাররা ভেবেছেন তাদের কথাও। কাপড় হিসেবে সবসময়ের মতো এবারও রয়েছে সুতির জয়জয়কার। পাশাপাশি অ্যান্ডি কটন, তাঁত, হাফ সিল্ক, সিল্ক, মসলিনটাও চলছে বেশ। তবে রেগুলার ডিজাইনের পোশাকেই সবার আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমের কারণে আরামদায়ক কুর্তা ও ফতুয়ার ওপরও ঝুঁকছে তরুণীরা। জিন্সের সঙ্গে মানানসই এই পোশাকগুলো হতে পারে ঈদের বিকেলের জন্য আদর্শ। ঈদটা গরমের সময় হচ্ছে। এর মাঝে কোনোরকম সংকেত ছাড়াই হানা দিতে পারে হঠাত্ বৃষ্টি। পোশাক ডিজাইনে তাই ঈদকে সামনে রেখে ভাবা হয়েছে ঋতু পরিবর্তনের কথাও। এজন্যই এবারের ঈদের সালোয়ার-কামিজ তৈরি করা হয়েছে তাঁত, সিল্ক, হাফসিল্ক, অরগ্যান্ডি, মসলিন ও শিফন কাপড়ে। ঈদের আরামদায়ক পোশাক হিসেবে সুতি কাপড়ও এখন অনেক জনপ্রিয়। এসব কামিজে থাকছে ব্লক, কারচুপি, অ্যাপ্লিক, ভরাট অ্যাপ্লিক ও এমব্রয়ডারির কাজ। অনলাইন ক্লোদিং শপ ‘কারু বুটিক’র সত্বাধিকারী ও ডিজাইনার জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে সালোয়ার-কামিজে জমকালো ভাব আনতে কামিজের কাজগুলো ভারি রাখা হচ্ছে। গলায় উজ্জ্বল রঙের সুতার কাজ থাকছে। কোনো কামিজের সম্পূর্ণ বডিতে আবার কোনোটির নিচের অংশে সুতার মোটা ও ভরাট ডিজাইন, পট্টি ও লেইস ব্যবহার করা হয়েছে। বাদ যাচ্ছে না পিছনের অংশও। কামিজের হাতায়ও থাকছে ভারি কাজ। সালোয়ার হচ্ছে কামিজের সঙ্গে কনট্রাস্ট করে। ওড়নায় থাকছে হালকা কাজ।’ এবারের ঈদের বিশেষ সালোয়ার-কামিজগুলো লম্বায় হচ্ছে হাঁটুর মাঝ বরাবর। একছাঁটের এই কামিজগুলো হচ্ছে লুজ ফিটিংয়ের। জনপ্রিয়তা বেশি থ্রি-কোয়ার্টার হাতার। তবে ডিজাইন ও পছন্দভেদে থাকছে ফুল ও স্লিভলেস হাতাও। সালোয়ারের ক্ষেত্রে ক্রেতারা চাপা আকৃতির ও চুড়িদার সালোয়ার বেছে নিচ্ছেন বেশি। ফ্যাশনের পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখে প্রতিটি ফ্যাশন হাউসই কামিজের কাটিং প্যাটার্নে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। আর এই পরিবর্তনের ব্যাপকতা চোখে পড়ার মতো। কামিজের কাটিং, কলার, লে-আউট, ছাপা, ব্লক, বুটিক, বাটিক, লেস ও চুমকির ব্যবহার প্রায় সবকিছুতে ইদানীং বিভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। আজকের তরুণীরা ট্র্যাডিশনাল পোশাকের পাশাপাশি এই নতুন ধারার ফ্যাশনের সঙ্গে সহজেই নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছেন। সাধ আর সাধ্যের সমন্বয়েই তৈরি হচ্ছে এই পোশাকগুলো। আপনার ঈদকে জমকালো ফ্যাশনের রঙে রাঙাতে দাম থাকছে হাতের নাগালেই। দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোয় ঈদের বিশেষ এই সালোয়ার-কামিজগুলোর দাম শুরু হচ্ছে দুই হাজার টাকা থেকে। তবে একটু বেশি ডিজাইন আর ভারি কাজ থাকছে যেসব এক্সক্লুসিভ সালোয়ার-কামিজে, আর দাম রাখা হয়েছে চার থেকে বারো হাজার টাকার মধ্যে। করোনার এই সময়ে শপিংমল বা মার্কেট বন্ধ থাকায় পছন্দ দেশি ফ্যাশন হাউজগুলোর পোশাক পেতে আপনি অনলাইনে ঢুঁ মারতে পারেন। যেমন—আড়ং, অঞ্জন’স, কে-ক্র্যাফট, বিশ্বরঙ, মায়াসির, রঙ বাংলাদেশ, সাদাকালো, বিবিয়ানা, কারু বুটিক-এর ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজ-এ। আর সেখান থেকে পছন্দসই পোশাকটি আপনি অনলাইনে অর্ডার করলে ঘরে বসেই পেয়ে যাবেন।

 

মডেল মাহি ও মিম্মি

পোশাক কারু বুটিক

ছবি ফারুক আবু