গাড়িচাপায় তিন মাসে নিহত চার শতাধিক

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য

ইত্তেফাক রিপোর্ট

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে সড়ক-মহাসড়কে ৩৯৮টি দুর্ঘটনায় ৪০৯ জন পথচারী নিহত হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ২৪৬, নারী ৬৬ এবং শিশু ৯৭ জন। সাতটি জাতীয় দৈনিক, পাঁচটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেকটনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। গতকাল সোমবার সংগঠনটি তথ্য জানিয়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। বাড়ছে নানা প্রকার অপরিকল্পিত যানবাহন। প্রয়োজনের তাগিদে মানুষের যাতায়াত বাড়লেও সড়কে নিরাপদ চলাচল বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে না। সরকার সড়ক-সেতু নির্মাণে ব্যাপক অর্থ খরচ করছে, কিন্তু সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সচেতনতা সৃষ্টির জন্য অর্থ ব্যয় করছে না। ফলে কোনোভাবেই সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

ইদানীং সড়ক দুর্ঘটনায় পথচারী নিহতের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। গত তিন মাসে থ্রি-হুইলার এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের চেয়ে দ্রুতগতির ভারী যানবাহন দ্বারা পথচারী বেশি নিহত হয়েছে। মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নিহতের ঘটনার অধিকাংশই ঘটেছে গ্রামীণ সড়কে। রাস্তা পারাপারে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি নিহত হয়েছে। বেশকিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে সড়ক ঘেঁষা হাট-বাজারে এবং বসতবাড়ির সন্নিকটে। এই প্রতিবেদন গত তিন মাসের হলেও এটাই মূলত দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় পথচারী নিহতের সামগ্রিক প্রকৃত চিত্র। অতএব এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাস্তায় হাঁটার সময় দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫৩ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং রাস্তা পারাপারের সময় ঘটেছে ৪৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে পথচারীকে যানবাহনের ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৪৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ, এতে নিহত হয়েছে ৪৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ। পথচারীকে যানবাহনের চাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৫৫ শতাংশ, এতে নিহত হয়েছে ৫৫ শতাংশ। কয়েকটি দুর্ঘটনায় একাধিক প্রাণহানি ঘটেছে।

দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে যানবাহনের বেপরোয়া গতির কারণে এবং ৩৮ দশমিক ১৯ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে পথচারীদের অসতর্কতার কারণে।

যানবাহন দ্বারা পথচারী নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাস ১৮ দশমিক ০৯ শতাংশ, ট্রাক ৩২ দশমিক ৫১ শতাংশ, কাভার্ড ভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ, মোটরসাইকেল ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-জীপ ৩ শতাংশ ১৭ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (সিএনজি-ইজিবাইক-অটোরিকশা) ১০ দশমিক ০২ শতাংশ,নসিমন-আলমসাধু-অটোভ্যান-মাহিন্দ্র-টমটম-বোরাক ৪ শতাংশ ৪০ শতাংশ এবং অন্যান্য যানবাহন দ্বারা (পাওয়ারটিলার-ডাম্পার-ঠেসার) ১ দশমিক ২২ শতাংশ পথচারী নিহত হয়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, পথচারী নিহতের ঘটনা মহাসড়কে ঘটেছে ৩০ দশমিক ৯০ শতাংশ, আঞ্চলিক সড়কে ঘটেছে ২৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ, গ্রামীণ সড়কে ঘটেছে ২৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ, শহরের সড়কে ঘটেছে ১৪ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং অন্যান্য স্থানে ১ শতাংশ ঘটেছে।