ইত্তেফাক রিপোর্ট
গতকাল সকালে ডেমরার সারুলিয়া আমতলা এলাকার প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের বাড়ি থেকে সায়মা নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃতের পরিবারের দাবি, সায়মাকে পিটিয়ে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়া স্বামী বিদেশে থাকায় প্রতিনিয়ত সায়মাকে শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন সইতে হতো। লক্ষ্মীপুরের সদর থানার মনোহরপুর গ্রামের আলমগীর খানের মেয়ে সায়মা।
সায়মার ফুপাতো ভাই মুরাদ জানান, সায়মার জন্মের পর ছয় মাসের মধ্যে তার মায়ের মৃত্যু হয়। এদিকে বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করায় পশ্চিম যাত্রাবাড়ী এলাকায় ফুপুর বাড়িতেই বড় হয় সায়মা। এক বছর আগে প্রতিবেশী রেজাউল করিমের ছেলে অনিকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে বিয়ে হয় সায়মার। ছয় মাস আগে বিষয়টি জেনে মুরাদ সায়মার শ্বশুরবাড়িতে গেলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালসহ সায়মাকে দেখে নেবে বলে হুমকি দেয় অনিকের পরিবার।
পাঁচ মাস আগে অনিককে কৌশলে দুবাইতে পাঠিয়ে দেন তার বাবা। তারপর থেকে যৌতুকের দাবিতে সায়মার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। মোবাইল ফোনে প্রায়ই ফুপুর সঙ্গে এ সব বিষয় জানাতো সায়মা। দুই আড়াই মাস আগে শ্বশুর রেজাউল করিম যাত্রাবাড়ীর বাড়ি বিক্রি করে ডেমরায় একটি ভাড়াবাড়িতে চলে আসেন। নিজের ভরণপোষণের জন্য যাত্রাবাড়ীতে শ্বশুরের কসমেটিকের দোকানে কাজ করে সংসারে থাকতে হতো সায়মার। ডেমরা থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, সায়মার মৃত্যুর বিষয়টি তদন্তে করে দেখা হচ্ছে।