নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই
ইত্তেফাক ডেস্ক
ঝিনাইদহ ও নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাজার ও শপিংমলগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আগামীকাল থেকে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণার পর বিভিন্ন দোকানে এ ভিড় শুরু হয়। সেখানে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :
ঝিনাইদহ :আগামীকাল থেকে কঠোর লকডাউন ঘোষণার সিদ্ধান্তের পর ঝিনাইদহে দোকানে দোকানে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পোশাকের দোকানে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে বলছেন, ঈদের কেনাকাটাকেও ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। সোমবার সকাল থেকেই শহরের মুন্সী মার্কেট, গীতাগঞ্জী সড়কের পোশাকের দোকানসহ বিভিন্ন দোকানে ভিড় করছে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। মাস্ক ছাড়াই অভিভাবকদের সঙ্গে শপিংমলে ঘুরছে শিশুরা। এদিকে পোশাক ছাড়াও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও বেড়েছে ভিড়। ভিড়ের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে যানযটের। জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান জানান, চেষ্টা করেও শহরের মানুষের কেনাকাটার ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় জরিমানা করা হচ্ছে। মানুষ কোনো কিছু পরোয়া করছে না।
সৈয়দপুর (নীলফামারী) :কঠোর লকডাউনের আগে বৈশাখ আর ঈদের কেনাকাটার হিড়িক পড়েছে সৈয়দপুরে কাঁচাবাজার, বিপণিবিতান ও শপিংমলগুলোতে। করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুহারের ঊর্ধ্বগতি হলেও তা যেন নাড়া দিচ্ছে না সাধারণ মানুষকে। ভিড় ঠেলে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে বিভিন্ন দোকানে ছুটছেন ক্রেতারা। গাদাগাদি করে কার আগে কে কিনবেন পছন্দের পোশাক বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী, চলছে যেন তারই প্রতিযোগিতা। এদিকে ক্রেতাদের প্রতিযোগিতার সুযোগে ব্যবসায়ীরা প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছে প্রতিটি পণ্য। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে শপিংমল, ফুটপাত, সৈয়দপুর প্লাজা, শিল্প সাহিত্য সংসদ সুপার মার্কেট, চৌধুরী টাওয়ার, রেলওয়ে কাপড় মার্কেট, কাপড়ের পুরাতন মার্কেট ও সবজিবাজারে বাড়তে থাকে ক্রেতাসমাগম। সময় যত গড়িয়েছে ক্রেতার চাপে ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্যবিধি। মাস্ক ব্যবহারে চরম অনীহা দেখা যায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের। আবার বিপণিবিতানের ভেতরে মাস্ক ছাড়া দেখা যায় বিক্রয় কর্মীদেরও। শহরের ইসলামবাগ এলাকার শাহানাজ পারভীন নামের এক গৃহিণী বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণাপত্র দিয়েছে সরকার। তাই আমার ছোট দুটি ছেলেমেয়ের জন্য বৈশাখ ও ঈদের কাপড় কিনতে এসেছি। কিন্তু গতবারের চেয়ে অনেক বেশি দাম চাইছে বিক্রেতারা। বাজার করতে আসা আতিয়ার কলোনি এলাকার আলমগীর হোসেন নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবী জানান, লকডাউনে কখন কি হয় বলা যায় না, তাই মাসের বাজার করতে এসেছি। কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানেই প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। মুদি দোকানদার আসগর আলী বলেন, এই গরমে মাস্ক পড়তে কষ্ট হয়। দামের বিষয়ে বলেন, চাহিদা বেশি থাকায় জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বেড়েছে। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাসিম আহমেদ জানান, বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। করোনা মোকাবিলায় সচেতনার বিকল্প নেই। তিনি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানান।