লকডাউনে সীমিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখার পরামর্শ

সিপিডির সংলাপ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

গত বছরের লকডাউন সাধারণ মানুষের আর্থিক পরিস্থিতি ও জীবিকার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছিল। এই সংকট এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। কিন্তু বর্তমানের সংক্রমণ হার কমানোর জন্য কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রয়োজন আছে। বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রাখাও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া লকডাউন চলাকালে সীমিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত কোভিড অতিমারির দ্বিতীয় ঢেউ: কীভাবে সামলাব? শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এ কথা বলেন। গতকাল সোমবার ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক, ড. ফাহমিদা খাতুন সূচনা বক্তব্যে বলেন, গত বছর থেকে এই বছর সংক্রমণের হার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরে আমরা দেখেছিলাম লকডাউন বেশ ঢিলেঢালাভাবে হয়েছিল। তিনি উত্পাদন প্রক্রিয়া চলমান রাখা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন আমাদের করোনা ভাইরাস নিয়েই বাঁচতে শিখতে হবে। ব্র্যাকের সাবেক ভাইস চেয়ারপারসন ড. আহমদ মোশতাক রাজা চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে এর আগেও কোভিড-এর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার প্রচেষ্টা থাকলেও তা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে হয়নি। বিজিএমইএ-এর নবনির্বাচিত সভাপতি ফারুক হাসান মনে করেন, লকডাউনে পোশাক কারখানা বন্ধ হলে শ্রমিকরা অনেকে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য গণপরিবহন ব্যবহার করবেন, যা সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, লকডাউনের অর্থনৈতিক একটি প্রভাব রয়েছে; কিন্তু এটি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধে বাধা দেবে। তিনি আরো বলেন যে, জীবন এবং জীবিকার মধ্যে এখন জীবনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সময় এসেছে এবং এর জন্য স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত্। সংলাপে আরো বক্তব্য রাখেন আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ড. এ এস এম আলমগীর, বিভিন্ন পেশাজীবীসহ অনেকে সংলাপে অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মতামত তুলে ধরেন।