আগামী ১৪ এপ্রিল সকাল ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত নতুন বিধিনিষেধ কঠোরভাবে আরোপ করার প্রজ্ঞাপন জারি করায় রাজধানী থেকে অনেকেই ছুটছেন গ্রামের বাড়িতে। ঘোষিত এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধে এ শহরে নেই কোনো কাজ। এজন্য জীবন-যাপন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। তাই যেভাবেই হোক গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন নগরবাসী। আগে থেকে বন্ধ রয়েছে আন্তঃজেলা বাস সার্ভিস। তাই অনেককে হেঁটে ও বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে বাড়িতে যেতে দেখা গিয়েছে।
রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন আমিনবাজার ব্রিজের ওপর শত শত মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। যানবাহন নেই বলে সবার কাছে একটা ভরসা যে হেঁটে রওনা দিতে হবে। যাত্রাপথে অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, লেগুনা বা রিকশা ভ্যানে করে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছতে হয়েছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলামুখী মানুষের ঢল নামে সাভারের নবীনগর মোড়ে। ছোট মিনিবাস ভাড়া করে তাদের কেউ কেউ টাঙ্গাইল এলেঙ্গা মোড় বা যমুনা সেতু পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত যেতে পারছেন। সেখান থেকে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড় পর্যন্ত এসে বিভিন্ন যানবাহনে যে যার মতো নিজ গ্রামে পৌঁছেছেন। একই অবস্থা উত্তরার আব্দুল্লাহপুর মোড়ে। এখান থেকে কেউ কেউ যানবাহনে করে ময়মনসিংহ ও জামালপুরের উদ্দেশে রওনা দেন।
গতকাল দুপুরে আমিনবাজার ব্রিজের ওপর কথা হয় খিলগাঁও এলাকার রংমিস্ত্রি সোহেলের সঙ্গে। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। সোহেল বলেন, লকডাউনে তো কোনো কাজ নেই। তাই বাসায় থেকে লাভ কি। তাই গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। আমিনবাজার থেকে সিএনজিতে করে নবীনগর যাবেন। সেখান থেকে বিকল্প কোনো পরিবহনই তার একমাত্র ভরসা।
লঞ্চ বন্ধ বলে নদীপথে যারা বাড়ি যাওয়ার কথা, তারা পণ্যবাহী ট্রলারে করে রওনা দিয়েছেন বাড়ির উদ্দেশে। রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদী সংলগ্ন অস্থায়ী ঘাট থেকে এসব ট্রলারযোগে নদীপথে রওনা দিয়েছেন।
বাড়িফেরা মানুষের চাপে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে সোনারগাঁওয়ের মেঘনা সেতু টোলপ্লাজা পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পাশে ২০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রচণ্ড গরমে যানজটে আটকে পড়া মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। এ সময় অনেককে প্রচণ্ড রোদের মধ্যে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করতে দেখা গেছে।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, সকাল থেকেই হাইওয়ে থানা পুলিশ মহাসড়কে যানজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু অতিরিক্ত গাড়ির চাপে একটু পরই আবার ভয়াবহ যানজট শুরু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, কঠোর বিধিনিষেধের খবরে অনেকেই রাজধানী ছেড়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। এতে করে সোমবার সকাল থেকে ঢাকা-সিলেট এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রচণ্ড গাড়ির চাপ লক্ষ্য করা গেছে।