করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সশরীরে কোনো মঙ্গল শোভাযাত্রা করা যাবে না বলে নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে মঙ্গল শোভাযাত্রার স্থলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি প্রতীকী শোভাযাত্রা করবে। গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। করোনার কারণে গত বছরও মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনের দায়িত্বে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন ইত্তেফাককে জানান, প্রতি বছর সশরীরে মঙ্গল শোভাযাত্রা হলেও এ বছর করোনা ভাইরাসের উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আমরা শোভাযাত্রা পালন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। তবে প্রতীকী একটি শোভাযাত্রা আমরা করব। প্রতি বছরের মতো সকাল ৯টায় ঐ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এমনকি গণমাধ্যমের কাউকেও না। গণমাধ্যমের প্রচারের সুবিধার্থে প্রতীকী শোভাযাত্রার ভিডিও আমরা গণমাধ্যমে পাঠিয়ে দেব।
এর আগে গত ২৯ মার্চ সীমিত পরিসরে চারুকলা অনুষদ চত্বরেই ১০০ জন নিয়ে একটি মঙ্গল শোভাযাত্রা করার সিদ্ধান্ত জানায় বিশ্ববিদ্যালয়। ঐ সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি ইত্তেফাককে তিনি বলেন, তখন বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কিন্তু পরিস্থিতি এমন দাঁড়াবে তা আমরা চিন্তা করতে পারিনি। সরকারও এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে তা না জানায় ঐ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
গতকালকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোভিড-১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং লকডাউন বিবেচনা করে আগামী বুধবার (১৪ এপ্রিল) ১৪২৮ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সশরীরে কোনো মঙ্গল শোভাযাত্রা করা হবে না। তবে প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে চারুকলা অনুষদের শিল্পীদের তৈরি মঙ্গল শোভাযাত্রার বিভিন্ন মুখোশ ও প্রতীক ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রদর্শন ও সম্প্র্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এতে আরো বলা হয়, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গণজমায়েত করা যাবে না। মহামারি উদ্ভূত পরিস্থিতি উত্তরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সবার সহযোগিতা কামনা করেছে।