পয়লা বৈশাখে শত শত বছর ধরে বর্ষবরণ উত্সবে মেতে ছিল বাঙালি। কিন্তু করোনা মহামারি জেঁকে বসে সবকিছু মাটি করে দিল।
চৈত্রের শেষে মেলা বসত বাংলাদেশের প্রতিটি মফস্সল শহরে, গাঁও-গ্রামের কোথাও কোথাও। প্রায় পনেরো দিন ধরে সেই বর্ষবরণ মেলা চলত। হরেক রকম খেলনা মিলত মেলাতে। তখনকার দিনে মেলার আয়োজক ছিলেন হিন্দু জমিদাররা কিংবা প্রভাবশালী হিন্দু পরিবারের লোকজন। যেজন্য মেলায় ঢাক-ঢোল বাদ্য বাজত। কীর্তনের আসর বসত। চড়কের মেলায় চড়কের খেলাও হতো। সব বয়সি মানুষ এসে ভিড় করত। মনে হতো, চূড়ান্ত আনন্দ উপভোগ ওখানেই হতো। মেলায় আলাদা একটা গন্ধ ভেসে বেড়াত। কোথায় যেন সেই কবে হারিয়ে গেছে সেই গন্ধ। এতদিন বাদে আজ মনে হয়, সে দিনের মেলায় ফুলের গন্ধ মেখে বাতাস একটি নিশ্বাস ফেলে যেত। মেলায় ঢুকলে মনে মনে ভাবতাম, মেলায় আসার ছন্দ আমায় দিল বুঝি আনন্দ।
মনে আছে, শৈশবে পিরোজপুরে মেলার আয়োজক অসিত সেনের সেই মেলায় যাওয়ার কথা। তাঁর বাড়ির সামনেই বসত মেলা। সেই অসিত সেনও নেই, মেলাও আর বসে না। সে তো ৫০ বছর পেরিয়ে গেল। ঐ পথে গেলে মনে হয়, আহা কোথায় গেল সেই দিন...। সেদিনের সেই মেলার কোনো রকম ছোঁয়া এখনকার মেলার মধ্যে খুঁজে পাওয়া বড় দায়।
লিয়াকত হোসেন খোকন