সমাজের মূলধারায় ফিরতে হিজড়াদের ‘সিড়ি’

>> মামুনুর রশিদ রাজিব

 

‘হিজড়া’ শব্দটা শুনে মানুষের মনের ক্যানভাসে যে চিত্রটি ভেসে ওঠে তা হচ্ছে  একদল নারীর পোশাক পরা মানুষ যারা পথে-ঘাটে, বাসে-ট্রেনে, অফিস কিংবা বাসা- বাড়িতে গিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলে থাকেন। সাধারণ মানুষ যাকে চাঁদাবাজি বলে। আর এই চাঁদা না দিতে চাইলেই সৃষ্টি হয় বিব্রতকর পরিস্থিতির। এ সময় হিজড়াদের কেউ কেউ অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি কিংবা অশ্লীল কথাবার্তা শুরু করেন। প্রশ্ন হচ্ছে, হিজড়াদের নিয়ে এই সমস্যার সমাধান কোথায়? এ বিষয়ে আপনি না ভাবলেও নিজেদের পরিবর্তনের পথ এবার নিজেরাই খুঁজে বের করতে শুরু করেছেন সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত হিজড়ারা। বঞ্চনার জীবন ছেড়ে তাদের অনেকে ফিরতে শুরু করেছেন সমাজের মূলধারায়। এমনি একদল হিজড়ার বসবাস জামালপুর জেলার সদরে। ২০১৩ সালে বেশ কয়েকজন হিজড়া মিলে গড়ে তুলেছেন ‘সিড়ি সমাজকল্যাণ সংস্থা’। সংস্থাটির একটি শাখার নাম ‘সিড়ি হস্তশিল্প’।  যেখানে তারা জামা-কাপড়ে ডিজাইন করছেন এবং সেই ডিজাইন অনুযায়ী হাতের কাজ করে সংস্থার মাধ্যমে বিক্রি করছেন। বিনিময়ে তারা পাচ্ছেন জীবন বাঁচানোর জন্য সম্মানজনক কিছু অর্থ।

কথা হয় সিড়ি সমাজকল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা প্রধান আরিফা ইয়াসমিন মৈয়রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘হিজড়ারা মানব সমাজে এক নিগৃহীত জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছেন! কিন্তু কেন? স্রস্টার সৃষ্টিতে আমাদের কোনো হাত না থাকলেও হিজড়া হওয়ার অপরাধে আমাদের ঘর ছাড়তে হয়!’ ২০১৬ সালে জাতীয় জয়িতা পুরস্কার পাওয়া মৈয়রী আরো বলেন, ‘আমরা স্থানীয় বাজার থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে তাতে নকশার কাজ করে সেগুলো প্রথমে স্থানীয় বাজারেই বিক্রি করতাম। কিন্তু প্রথম প্রথম অনেকেই নিতে চাইত না আমাদের পণ্যগুলো। তবে এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে আমাদের নকশা করা কাপড় নিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া আমরা বিভিন্ন মেলায় অংশ নিচ্ছি।’ সিড়ি সমাজকল্যাণ সংস্থায় বিভিন্ন রকম প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় হিজড়াদের কাজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য। এছাড়াও এই সংস্থার মাধ্যমে তারা বিভিন্ন দুর্যোগে সমাজের অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ায়। তাদের বিশ্বাস, খুব শিগগিরই হিজড়ারাও সমাজের মূলধারায় ফিরবে।