>> গোলাম মোর্শেদ সীমান্ত
উপস্থাপক হিসেবে উপস্থাপনা তো সবাই করেন, কিন্তু মনে রাখে ক’জন। তবে আজ যার গল্পটা বলব, তিনি ব্যতিক্রম। নিজের ভিন্নধর্মী উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শকের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। রাফসান সাবাব যার নাম। একাধারে তিনি কমেডিয়ান এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএতে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু হয় রাফসানের। টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক তখন আইবিএতেই শেষ বর্ষের ছাত্র। এক পর্যায়ে সেই সোশ্যাল মিডিয়া টিমে যুক্ত হন রাফসান। ২০১৭ সালে ‘টেন মিনিট শো’তে উপস্থাপনার মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপনা শুরু করেন তিনি। রোবট ‘সোফিয়া’ সকলের কাছেই বেশ পরিচিত। বাংলাদেশে আসার পর যিনি তার ইন্টারভিউ নিয়েছেন তিনি হলেন রাফসান সাবাব।
রাফসানের উপস্থাপনার হাতেখড়িটা ক্যাডেট স্কুলে পড়ার সময়ে। সেই থেকে রাফসানের মাথায় গেঁথে যায়— নিজের উপস্থাপনায় এমন কিছু থাকতে হবে যা দেখার জন্য দর্শক অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবে। বাস্তবেও রাফসানের প্রতিটি উপস্থাপনায় দেখা যায় ভিন্নতা। কোনোটার সঙ্গে কোনোটা মেলানো বড্ড কঠিন।
২০১৯ সালে রাফসান বন্ধুদের সহযোগিতায় পরিকল্পনা করেন লেট নাইট শো’র। রাফসান নিজের শো সবার সামনে তুলে ধরার জন্য বেছে নেয় ইউটিউব। টিভি পর্দার গতানুগতিক ধারার টক শো থেকে ব্যতিক্রম কিছু করায় প্রথম পর্ব থেকেই দর্শক তা গ্রহণ করেছে। বলা যায়, প্রথম শো-ই হিট। ইউটিউবে শো’টি দেখে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ। রাফসান শো’র নামকরণ করেন ‘হোয়াট এ শো’। এটিকে হিউমার বেজড লাইভ রিয়েলিটি শো বলা যায়।
এ বিষয়ে রাফসান বলেন, ‘আমার এই শো টার পিছনে অনেক বড় টিম কাজ করছে বিষয়টা এমন নয়। একটা কনটেন্ট রাইটার টিম রয়েছে, যারা পুরো শো’টাকে একটা লেখার মধ্যে ফুটিয়ে তুলেন। তারপর আমি যে অতিথিকে আমন্ত্রণ জানাই তাকে নিয়ে অনেক সময় ধরে গবেষণা করি। বলা যায়, তার আদ্যোপান্ত জানার চেষ্টা করি যা আমাদের শো’টাকে সকলের কাছ থেকে ভিন্ন করে তুলে। এমন কিছু বিষয় আমরা শো’তে তুুলে ধরি যে বিষয়ে কোনোদিন কোনো শো’য়ে কোনো অতিথি কথা বলেননি। যখন অতিথি বুঝতে পারেন আমরা তার বিষয়ে অনেক কিছুই জানি, তখন তিনি আনন্দিত মনে শো’টা উপভোগ করেন।
রাফসানের শো’য়ে হাজির হচ্ছেন নানান শ্রেণি-পেশার মানুষ। অভিনেতা থেকে ভিলেন, গায়ক থেকে নায়ক, নায়িকা থেকে ক্রিকেটার—বাদ যাননি কেউ।
ইতিমধ্যে প্রথম সিজনের চারটা পর্ব প্রকাশ করা হয়েছে ইউটিউবে। ইতিমধ্যে শোগুলো ১৩ লাখের বেশি মানুষ দেখেছেন।
রাফসান জানান, ইতিমধ্যে দ্বিতীয় সিজনের তিনটি পর্বের শুটিং শেষ। খুব শিগগিরই দর্শকদের জন্য প্রকাশ করে হবে ‘হোয়াট এ শো’র নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে। যে চ্যানেলটিতে প্রায় ৪০ হাজার অনুসারী রয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রথম সারির বিজ্ঞাপনী সংস্থা গ্রে ঢাকা’য় স্ট্রাটেজি এবং প্ল্যানিং বিভাগে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন রাফসান সাবাব।
রাফসান সাবাব বলেন, ‘বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজ করার কারণে আমার উপস্থাপনা এবং কনটেন্ট তৈরি করতে বেশ সুবিধা হচ্ছে; কেননা আমি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি। আর এতে করে নানা ধরনের বিষয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটে, যা আমার উপস্থাপনায় বিশাল ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে মানুষের সাইকোলজি বোঝা আমার জন্য সহজ হয়ে যায়।’
ভবিষ্যতে পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি একজন কমেডিয়ান। করোনার কারণে বেশ কয়েক মাস যাবত কমেডি শো করতে পারছি না। কারণ কমেডি শো’য়ে একদল মানুষের দরকার হয়, নইলে যে ব্যাপারটা জমে না। আশা করছি সবকিছু স্বাভাবিক হলে বেশ কিছু শো করব।’
রাফসান সাবাব আরও বলেন, ‘প্রসঙ্গত বলতে হচ্ছে, আমার বেশকিছু লেখা ইতিমধ্যেই কমপ্লিট করা আছে। এছাড়া উপস্থাপনা নিয়ে অনেক সময়ই অনেকে কর্মশালা করার কথা বলেন। এবার পরিকল্পনা করেছি নিজের অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে সম্পূর্ণ বিষয়টা দর্শক-শ্রোতাদের জানানোর। কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশের সুপরিচিত একটি ই-লার্নিং প্লাটফর্ম থেকে কোর্সটি আসবে। সেইসঙ্গে ভবিষ্যতে আমার শো’টাকে দেশের গণ্ডি পার করে ভিন দেশেও নিয়ে যেতে চাই।’