হালদার দিকে তাকিয়ে ডিম সংগ্রহকারীরা

সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ, চট্টগ্রাম অফিস

দেশে কার্পজাতীয় মাছের একমাত্র প্রজননস্থল পাহাড়ি নদী হালদার দিকে তাকিয়ে আছে হাজার হাজার ডিম সংগ্রহকারী। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত যে কোনো সময় এই নদীতে প্রবল বজ্রবৃষ্টিতে ডিম ছেড়ে থাকে মা মাছ। হালদা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও এ বছর হালদায় মাছের ডিম ছাড়ার মৌসুম শুরু হয়েছে বৈরী প্রাকৃতিক পরিবেশ নিয়ে। কারণ গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে চট্টগ্রামে হালদাকে ঘিরে এ বছর কোনো ধরনের বৃষ্টিপাত হয়নি, যা কিনা অন্যান্য বছরের ব্যতিক্রম। ডিম ছাড়ার ‘জো’র মধ্যে বৃষ্টি হলে দূষিত পদার্থে হালদার পানি ভরে যাবে। এটি মা মাছেদের ডিম ছাড়ার ক্ষেত্রে প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করবে। ফলে এবার রেকর্ড পরিমাণ ডিম মাছেরা ছাড়বে কি না, তা নিয়ে আশা-নিরাশায় দুলছেন সবাই।

হালদা গবেষকেরা বলেন, ডিম ছাড়ার মৌসুম শুরু হয়েছে এপ্রিল থেকে। আগামী জুন পর্যন্ত যে কোনো সময়ে প্রবল বজ্রবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশে মা মাছ ডিম ছাড়বে। ইতিমধ্যে ২০ থেকে ৩০ কিলোগ্রাম ওজনের বিশাল বিশাল কাতল, রুই, মৃগেল, কালিবাউশ ইত্যাদি কার্পজাতীয় মাছ হালদা নদীতে আনাগোনা শুরু করে দিয়েছে বলে দৃশ্যমান হয়েছে। ফলে বিভিন্ন পয়েন্টে হাজার হাজার ডিম সংগ্রহকারী জাল ও নৌকা নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষমাণ রয়েছে। অন্যদিকে গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে বৃষ্টি না হওয়ায় শঙ্কিতও হয়ে আছে তারা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং হালদা রক্ষা কমিটির সভাপতি ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া ইত্তেফাককে বলেন, শঙ্কার বিষয় হলো, ডিম ছাড়ার মৌসুম শুরুর প্রাক্কালে ফেব্রুয়ারি-মার্চে এবার অন্যান্য বছরের মতো এক-দুই দফা বৃষ্টিপাত হয়নি। এখন তো ডিম ছাড়ার ‘জো’ এসে গেছে। এ সময় বৃষ্টি হলে দূষিত পদার্থ বিপুল পরিমাণে হালদার পানিতে গিয়ে পড়লে ডিম ছাড়ার প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তবু আমরা আশাবাদি, গত এক বছর হালদার পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট মহল একটি চমত্কার সুরক্ষা ব্যবস্থাপনা বজায় রেখেছিল। সরকার ২০২০ সালের ডিসেম্বরে হালদা নদীকে জাতীয় নদীর মর্যাদায় ‘বঙ্গবন্ধু হেরিটেজ’ ঘোষণা করলে হালদাকে ঘিরে সবার উত্সাহ-উদ্দীপনা সীমাহীন মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। কাজেই সম্মিলিত তীক্ষ নজরদারিতে আশা করা হয়েছিল মা মাছেরা ডিম ছাড়ার ক্ষেত্রে অতীতের সব রেকর্ড ভাঙবে। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় বিষয়টি বৈরী আবহাওয়া হিসেবে বিশেষজ্ঞদের কাছে গণ্য হচ্ছে।

ড. কিবরিয়া তথ্য প্রকাশ করে বলেন, ডিম সংগ্রহের জন্য হালদা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এখন ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার ডিম সংগ্রহকারী নৌকা-জাল নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে। হালদাপাড়ে একটি বেসরকারি ও পাঁচটি সরকারি হ্যাচারি ডিম থেকে মাছের রেণু ফোটানোর জন্য প্রস্তুত আছে। এখন অপেক্ষা শুধু চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের মানিকছড়িতে বজ্রসহ প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল। সাধারণত প্রতি মৌসুমে মা মাছেরা একবারই ডিম ছাড়ে। কিন্তু গত বছর ব্যতিক্রম ঘটিয়ে মা মাছেরা কয়েক দফা ডিম ছেড়েছিল।