ফরিদপুরের মধুখালীতে মা-মেয়ের চক্রান্তে এক গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ঐ গৃহবধূ অভিযোগ করেন, তার বান্ধবী রোজিনা ও রোজিনার মায়ের চক্রান্তে তাকে দুই দিন ধরে আটকে রেখে গণধর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঐ গৃহবধূকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঐ গৃহবধূর তিন বছরের একটি সন্তান রয়েছে।
জানা যায়, মধুখালী পৌর এলাকার আশ্রয়ন কেন্দ্রে বসবাস করেন পারুল আক্তার ও তার মেয়ে রোজিনা। গত রবিবার রোজিনা ও তার মাসহ কয়েক জন ঐ মেয়েটির বাড়িতে যায়। তাদের বাড়িতে একটি মোবাইল ফোন ফেলে রেখে আসার নাটক সাজিয়ে কয়েক জনকে নিয়ে ঐ গৃহবধূকে তুলে নিয়ে আসে রোজিনা ও তার মা।
মেয়েটি অভিযোগ করেন, রোজিনা ও তার মা প্রথমে তাকে বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর এলাকার একটি বাড়িতে রাখে। রাতে খাবারের সঙ্গে কিছু একটা মিশিয়ে দিলে অচেতন হয়ে পড়লে এক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করে। পরদিন সোমবার সেখান থেকে তাকে নিয়ে যায় মধুখালীতে অবস্থিত ফরিদপুর চিনিকল মসজিদ সংলগ্ন একটি বাড়িতে। রাতে সেখানেও কিছু একটা খাইয়ে অচেতন করে দুই ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করে। মঙ্গলবার সকালে ঐ গৃহবধূকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে আসে।
ঐ গৃহবধূ বলেন, যারা ধর্ষণ করেছে তাদের নাম জানি না। তবে দেখলে চিনতে পারব। যে বাড়িতে রাখা হয়েছিল সেটাও আমি চিনব। একজন লোক একটু বয়স্ক, মুখে দাড়ি আছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।
মেয়েটির মামা বলেন, ভাগনিকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। ওর ওপর পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিত্সক ডা. আব্দুর রহমান ফিরোজ জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা মেয়েটির চিকিত্সা করছেন। সন্ধ্যায় ফরেনসিক বিভাগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। সেখান থেকে ওসিসি সেন্টারে পাঠানো হতে পারে। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেলে বিস্তারিত জানাতে পারব।
মধুখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রথিন্দ্র নাথ তরফদার বলেন, ঘটনাটি জানতে পেরে তাত্ক্ষণিক সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রোজিনা ও তার মা পারুল আক্তারকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এখন পর্যন্ত অভিযোগও হাতে পাইনি, মেয়েটির পিতা জানিয়েছেন সন্ধ্যার মধ্যে অভিযোগ দিবে।