বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মকবুল আহমাদ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি... রাজিউন)। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কল্যাণপুরে ইবনে সিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিত্সাধীন ছিলেন। তিনি স্ত্রী, তিন পুত্র ও দুই কন্যাসহ বহু আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন।
২০১০ সালের জুনে জামায়াতের তত্কালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে মকবুল আহমাদ ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি তৃতীয় আমির হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।
মকবুল আহমাদের ইন্তেকালের খবর পেয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে তার পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিমের কাছে ফোন দিয়ে তিনি মরহুমের পরিবারের খোঁজ নেন। মকবুল আহমাদের ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তারা বলেন, আজীবনের এই দা'য়ী ইল্লাল্লাহ জামায়াতে ইসলামীর কঠিনতম সময়ের কান্ডারি। আমাদের জন্য রেখে গেলেন অনেক শিক্ষা এবং উদাহরণ। শোক জানিয়েছেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ (বীরবিক্রম)।
মকবুল আহমাদ ১৯৩৯ সালের ৮ আগস্ট ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার ওমরাবাদ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম নাদেরুজ্জামান। তারা পাঁচ ভাই ও তিন বোন। তার পরিবারের সব সদস্যই ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত।
মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশের পরে তিনি ফেনী কলেজে ভর্তি হন। তিনি এ কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা এবং ১৯৬২ সালে বিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বিএ পাশের পরে এক বছর সরকারি চাকরি করার পরে চাকরি ছেড়ে দেন এবং শিক্ষকতাকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন শেষ করে ১৯৬২ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন এবং ১৯৬৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর রুকন (সদস্য) হন।