খোশ আমদেদ মাহে রমজান

দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অদৃশ্য পেনডেমিক মাইক্রোস্কোপ করোনা ভাইরাসে জর্জরিত তামাম পৃথিবীর মানুষ। এরই মধ্যে আবারও রহমত, মাগফিরাত ও দোজখ থেকে নাজাতের বার্তা নিয়ে ১৪৪২ হিজরির রমজানুল মোবারক ফিরে এলো আমাদের মাঝে। খোশ আমদেদ মাহে রমজান। আহলান সাহলান মাহে রমজান।

যদিও আজ সারা মুসলিম উম্মাহর মধ্যে করোনা ভাইরাসের কারণে রমজানের পূর্ণ আমেজ-আনন্দ নেই। কেউবা আত্মীয়স্বজন হারানোর বেদনায় শোকাহত, কেউবা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আতঙ্কিত। কেউবা করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন ভেবে দুশ্চিন্তায় আছেন। এমতাবস্থায় আমাদের মানবজাতির তাকদিরের ভালো, মন্দ—সবকিছুই একমাত্র মহান আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল।

যেসব মুমিন মুসলমান করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পরপারে চলে গেছেন, মহান আল্লাহপাক তাদের শহিদের মর্যাদায় জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন। কেননা, রসুল (স.) বলেছেন, যদি কেউ মহামারিতে মারা যান, তিনি শহিদ। যেসব মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ আছেন, মহান আল্লাহপাক তাদের সুস্থতা দান করুন। যেসব মানুষ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন, মহান আল্লাহপাক তাদের করোনা ভাইরাস থেকে হেফাজত রাখুন। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে করোনা ভাইরাস বিশ্বমানবের জন্য এক বড় অগ্নিপরীক্ষা। করোনার পরীক্ষায় যেন আমরা সবাই ধৈর্যের সঙ্গে টিকে থাকতে পারি এবং ইমানহারা না হই, মহান আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে আমরা সবাই এটাই প্রার্থনা করি।

চন্দ্রবর্ষ গণনায় ৩৬৫ দিনের মধ্যে রমজানের দিনগুলো হচ্ছে শ্রেষ্ঠ। এই মাস কল্যাণময়। এই মাস কোরআন নাজিলের মাস। রহমত-বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এই মাস তাকওয়া ও সংযম প্রশিক্ষণের মাস। এই মাস সবরের মাস। এই মাস জীবনকে সব পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্তি দেয়। এই মাস আল্লাহর নৈকট্য ও রেজামন্দি অর্জনের মাস। আল্লাহপাক পবিত্র কালামে ঘোষণা করেন, রমজান মাসে মানুষের দিশারি, সত্পথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে আল-কোরআন নাজিল হয়েছে।

সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে, তারা যেন এ মাসে সিয়াম তথা রোজা পালন করে। (সুরা বাকারা)। করোনাকালীন শোক ও দুঃখগাথার দিনগুলোতে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ইমানের অগ্নিপরীক্ষায় মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে প্রথম রমজানের রোজা রেখেছি। মহান আল্লাহপাক ছবরকারীদের ভালোবাসেন। পবিত্র আল-কোরআনে আল্লাহপাক ঘোষণা করেছেন, ইন্নাল্লাহা মাআছ ছবিরিন। নিশ্চয়ই আল্লাহপাক ধৈর্যশীলদের সঙ্গে রয়েছেন।

অতএব, মেহেরবাণী করে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সম্মানিত রোজাদার-মুসল্লিগণ সোশ্যাল ডিসট্যান্স বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মাহে রমজানে যাবতীয় ইবাদত-বন্দেগি করবেন বলে আশা করি। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায়সহ সালাতুত তারাবির নামাজ আদায় করব আমরা। মহান আল্লাহপাক আমাদের সবার সহায় হোন। আমিন।

লেখক: অতিথি অনুবাদক, মক্কা আল মুকাররামাহ ও সাবেক খতিব, জাতীয় সংসদ জামে মসজিদ, ঢাকা

ইত্তেফাক/এএএম