দেবীদ্বারে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় শারমিন আক্তার নামে এক প্রসূতির পেটে ভুল করে গজ রেখে দিয়েছিলেন ডাক্তাররা। পাঁচ মাস পর দ্বিতীয় বার অপারেশন করে গজ বের করা হলেও বাঁচানো যায়নি শারমিনকে (২৫)।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শারমিনের বাবা মো. মোবারক হোসেন। বুধবার তার স্বামীর বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার মোগসাইর গ্রামে জানাজা শেষে তাকে সমাহিত করা হয়। এদিকে ভুল চিকিত্সার বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখনো কাজ শুরু করেনি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত কমিটি। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। শারমিন আক্তারের পরিবার জানান, দেবীদ্বার সদরের আল ইসলাম হাসপাতালে তার সিজার অপারেশন হয়েছিল পাঁচ মাস আগে। জন্ম হয় এক ছেলে সন্তানের; কিন্তু অপারেশনের সময় হাসপাতালের গাইনি ডাক্তার ও তার সহযোগীরা ভুলবশত পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেয়; কিন্তু তীব্র ব্যথায় শারমিনের অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে গত ৬ এপ্রিল রাতে ময়নামতীর অপর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে পুনরায় অপারেশন করে তার পেট থেকে গজ অপসারণ করা হয়; কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় শনিবার ভোরে তাকে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালের আইসিইউতে এবং পরে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
শারমিনের স্বামী রাসেল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ডাক্তারের ভুলে আমার দুই শিশু সন্তান তাদের মাকে হারিয়েছে।
এ ব্যাপারে আল ইসলাম হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়াজ মোহাম্মদ হোসেন (এনাম) বলেন, ‘ঘটনাটি যেভাবেই কিংবা যার ভুলেই হোক এ অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে আমরা অনুতপ্ত এবং এ পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। এ বিষয়ে গঠিত কমিটি বিষয়টি তদন্ত করছে।’ মোবাইল ফোনে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন বলেন, ঐ প্রসূতির মৃত্যুর খবর আমরা জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি আগেই গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।