রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আজিজুল হক ইসলামাবাদী

সচিবালয় দখলে নিয়ে সরকার পতনের টার্গেট ছিল হেফাজতের

সরকার পতনের টার্গেট নিয়েই ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে বসেছিল হেফাজতে ইসলাম। রাত পার করতে পারলেই পরদিন সকালে সচিবালয় দখলে নেওয়ারও পরিকল্পনা ছিল সংগঠনের নেতাদের। যদিও তার আগে রাতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে শাপলা চত্বর ছেড়ে যেতে বাধ্য হন তারা। রিমান্ডে থাকা হেফাজতের শীর্ষ নেতা আজিজুল হক ইসলামাবাদী গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য দিয়েছেন বলে গোয়েন্দা সূত্র দাবি করেছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রিমান্ডে রয়েছেন আজিজুল হক ইসলামাবাদী। গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান যুগ্ম-কমিশনার মাহবুব আলম ইত্তেফাককে বলেন, আজিজুল হককে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তাকে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল ও পল্টন এলাকায় নাশকতার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন। সেই তথ্যগুলো এখন যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ঐ নাশকতার মামলায় হেফাজতে ইসলামের আরো তিন নেতাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর পল্টন থানায় ২০১৩ সালে দায়ের করা নাশকতার মামলায় হেফাজত নেতা শাখাওয়াত হোসেন রাজী, ফখরুল ইসলাম ও মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীকে পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এর আগে এই তিন নেতাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়া পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি নাশকতার সঙ্গে হেফাজত নেতাদের সম্পৃক্ততা নেই বলেই দাবি করছেন আজিজুল হক। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, তাদের আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে দুষ্কৃতকারীরা এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। নাশকতার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় নেতাদের কোনো ধরনের নির্দেশনা ছিল না। তবে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের আন্দোলনের মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের কয়েক জন নেতার উসকানি ছিল বলে দাবি করেছেন আজিজুল হক। তবে ঐ নেতাদের নাম গোয়েন্দা পুলিশ প্রকাশ করেনি। তাদের ব্যাপারে তদন্ত হচ্ছে।

মাওলানা মামুনুল হকের ব্যাপারে সংগঠনের অবস্থান কী? গোয়েন্দারা জানতে চাইলে আজিজুল হক বলেন, তাকে নিয়ে সংগঠন বিব্রত। ইতিমধ্যে তাকে ফেসবুক লাইভ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এমনকি মিডিয়ার সামনেও কিছু বলতে নিষেধ করেছেন নেতারা। হঠাত্ করেই মামুনুল হক এমন একটি কাণ্ড করে বসবেন সেটা বুঝতে পারেননি কেন্দ্রীয় নেতারা। মামুনুল হক নিজেও সংগঠনের নেতাদের কাছে সঠিক তথ্য দেননি। কারণ তিনি সোনারগাঁওয়ের রিসোর্টে স্ত্রীকে নিয়ে গেছেন বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু কোনো কাবিননামা তিনি দেখাতে পারেননি। এই কারণে সংগঠনের নেতারা পরিস্থিতি বুঝে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।