নিউজপ্রিন্টের শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের

আসছে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে নিউজপ্রিন্ট আমদানি পর্যায়ে শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এ দাবি করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান আলোচনায় অংশ নেন।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, নিউজপ্রিন্টের ওপর আরোপিত কর কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া করপোরেট করও কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা। গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের পরামর্শের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেট প্রণয়নের জন্য আমাদের একটি টিম আছে, সেই টিম কাজগুলো করবে। আমরা পরামর্শগুলো পেয়েছি, সেগুলো আমরা বিবেচনা করব। আমরা টিম নিয়ে আবার একসঙ্গে বসব, বসে সেখানে সিদ্ধান্ত নেব যে, এর মধ্যে কোনগুলো বাজেট প্রণয়নে কাজে লাগাব। যতটা আমাদের সাধ্যে কুলায় সেভাবেই গ্রহণযোগ্য পরামর্শ আমরা গ্রহণ করব। ৮-১০ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতির পরও বাজারে চালের দাম অনেক বেশি, এর কারণ জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন—ধান, চাল এবং গম প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। আমরা দাবি করি—আমরা খাদ্যশস্যে স্বাবলম্বী। খাদ্যশস্যে আমরা স্বাবলম্বী হতে পারি সেই বছর যে বছর আমাদের প্রকৃতি স্বাভাবিক থাকে। যদি প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ আসে সেটা আমরা মেইনটেইন করতে পারি না।

তিনি বলেন, গত বছরও আমাদের অনেক বোরো ধান নষ্ট হয়েছে, সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য একটি প্যাকেজ নেওয়া হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের চেয়ে অনেক দেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এর কারণে কৃষিকাজ কৃষকরা করতে পারেননি। স্বাভাবিক কাজ যেমন ব্যাহত হয়েছে তেমনি কৃষিও ব্যাহত হয়েছে। এর কারণে সরবরাহ কমে গেছে, ফলে চালের দামটা বেশি। তিনি বলেন, প্রাক-বাজেট আলোচনায় কৃষি প্রযুক্তি খাতে ভর্তুকি বাড়ানোর দাবি এসেছে। বর্তমানে বহু শিক্ষিত উদ্যোক্তা কৃষিখাতে এগিয়ে আসছে। আমাদের কৃষি খাতের যে যে জায়গায় হাত দেওয়া উচিত সেখানে আমরা সহযোগিতা করব। কৃষি আমাদের লাইফলাইন। সুতরাং সব ধরনের কৃষিজাত প্রডাক্টে আমরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করব। আমাদের যারা শিক্ষিত কৃষিতে আসতে চায় তাদের উত্সাহিত করার জন্য কিছু কিছু প্রণোদনা রেখে আমরা চেষ্টা করব। আলোচনা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের বিভিন্ন কাজ সময়মতো হয় না বলে অপচয় হয়, সেই অপচয় বন্ধ করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন তারা। নাইমুল ইসলাম খান বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এক সময় বলা হতো প্রাচ্যের অক্সফোর্ড। এটা এখন আর আন্তর্জাতিক মানের নয়। কীভাবে এটাকে আন্তর্জাতিক মানের করা যায় সে বিষয়ে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বৈঠকে অংশ নেন।