লকডাউনের তৃতীয় দিন

বিভিন্ন স্থানে মানুষের চলাচল বেড়েছে

সর্বাত্মক লকডানের তৃতীয় দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষের চলাচল বেড়েছে। অনেক স্থানে যানজটও দেখা গেছে। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :

সৈয়দপুর (নীলফামারী) : করোনা ভাইরাসে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সারা দেশে ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য সরকারঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। কিন্তু সৈয়দপুরে প্রথম দিন কিছুটা কড়াকড়ি থাকলেও দ্বিতীয় দিন থেকে রাস্তা এবং বাজারে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। শুক্রবার সকালে শহরে রীতিমতো যানজট সৃষ্টি হয়। সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মোড়ে মোড়ে মানুষের আড্ডা, বাজারে অধিকাংশ দোকানের ঝাঁপ অর্ধেক খোলা রেখে চলছে বেচাকেনা। এছাড়া দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রিকশা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারসহ প্রায় সব ধরনের যানবাহন। বিশেষ করে অটোরিকশা এবং সিএনজিতে গাদাগাদি করে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। এদের মধ্যে অনেকের মুখে আবার মাস্কও নেই। লিপি নামের এক গৃহিণী তার আট বছরের ছেলেকে নিয়ে  কেনাকাটা করতে এসেছেন শহরে। তিনি বলেন, সামনে ঈদ তাই ছেলেটাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছি নতুন পোশাক কিনে দিতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, দেখলাম রাস্তায় যানবাহনের প্রচণ্ড ভিড়। তাই অর্ধেক দোকান খুলে বেচাকেনা করছি। সৈয়দপুর থানার ওসি আবুল হাসনাত খান জানান, মানুষকে সচেতন করতে পুলিশ বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া :ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের সড়কগুলোতে শুক্রবার সকাল থেকে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। এদিকে লকডাউনে দোকান, শপিংমলসহ সরকারি নির্ধারিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার যান চলাচল। তবে শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট আকারের যান চলাচল করছে। বিভিন্ন স্থানে চলাচলকারী মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে সচেতনতা নেই। একে অপরের গা ঘেঁষে এবং মাস্ক ছাড়াও ঘোরাফেরা করছেন। এদিকে লকডাউন বাস্তবায়নে শহরের কুমারশীল মোড়, টিএ রোড, কাউতলী, ভাদুঘর, কোর্ট রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ টহল দিচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনের একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালতও কাজ করছে।  

নাজিরপুর (পিরোজপুর) :নাজিরপুরের অধিকাংশ মানুষ শ্রমজীবী। শ্রম বিক্রি করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে শ্রমজীবীরা। লকডাউনের কারণে শ্রম বিক্রি করতে না পারায় অনেক পরিবার অনাহার অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। বাস শ্রমিক শহিদুল ইসলাম জানান, গাড়ি না চলার কারণে আয় রোজগার বন্ধ। এদিকে ঘরে চাল নেই, ছেলেমেয়ে নিয়ে কীভাবে সংসার চলবে ভেবে পাচ্ছি না।

কাহারোল (দিনাজপুর) :কাহারোলে লকডাউন চলছে ঢিলেঢালাভাবে। উপজেলায় কেউই মানছেন না কোনো সামাজিক দূরত্ব। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ঘুরে দেখা গেছে, দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও প্রতিটি বাজারে ও বিভিন্ন সড়কে চলছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, চার্জার ভ্যান, প্রাইভেট কারসহ অন্যান্য যানবাহন। জরুরি সেবার আওতায় ওষুধের দোকান, কাঁচাবাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দোকান খোলা রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাঁচাবাজার খোলা রাখার সিদ্ধান্ত থাকলেও মানছে না কেউ। শুক্রবারও উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়কে লোকজন ও যানবাহনের জট দেখা গেছে। 

ঈশ্বরদী (পাবনা) :‘সর্বাত্মক লকডাউনের’ দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন রাস্তা প্রথম দিনের মতো ফাঁকা ছিল না। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও রাস্তায় রিকশা ও অটো চলাচল বেড়েছে। কিছু সিএনজিচালিত অটোরিকশাও চলতে দেখা গেছে;  বেড়েছে ব্যক্তিগত গাড়িও। বৃহস্পতি ও শুক্রবার উপজেলার কলেজ রোড, স্টেশন রোড, পাবনা রোড, বিমানবন্দর রোড, আইকে রোড ও শেরশাহ রোড ঘুরে ঐ অবস্থা দেখা গেছে। তবে যান ও পথচারী চলাচল নিয়ন্ত্রণে তত্পর রয়েছেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও। কয়েকটি স্থানে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে বিধিনিষেধ আরোপে প্রচেষ্টা চালাতে দেখা গেছে। রিকশাচালক লাল্লু মিয়া বলেন, খিদায় রাস্তায় নামছি। ভুল হইছে, কিন্তু করার কিছু নাই।

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) :ফুলবাড়ীতে লকডাউনেও রাস্তায় উপচে পড়া ভিড় রয়েছে। শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুলবাড়ী পৌর এলাকা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ের হাটবাজারগুলোতে গুটিকয়েক দোকান বন্ধ থাকলেও বেশির ভাগই এক পাল্লা খুলে সমাগম ঘটিয়ে পণ্য বেচাকেনা করছেন। চায়ের দোকান, কাঁচাবাজার ও রাস্তায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। লকডাউনে বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও অবাধে চলছে স্থানীয় যান পাগলু, ট্রলি, অটোরিকশা ইজিবাইকসহ মোটরসাইকেল। এসব যানবাহনে মানা হচ্ছে না কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি এবং অনেকেই রয়েছেন মাস্ক ছাড়া। গাদাগাদি করে যানবাহনগুলোতে বসছেন যাত্রীরা। এসব যানবাহনে তিন গুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ যাত্রীদের। উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের মমতাজ উদ্দিন জানান, ব্যক্তিগত জরুরি প্রয়োজনে ফুলবাড়ী থেকে অটোরিকশায় দিনাজপুর যাচ্ছিলেন। ৫০ টাকার ভাড়া তাকে দিতে হয়েছে ১২০ টাকা। এদিকে ফুলবাড়ী থানার ওসি মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে লকডাউনভুক্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, লকডাউন কঠোর করতে প্রশাসন তত্পর রয়েছে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করে জরিমানাসহ সতর্ক করা হচ্ছে।