জন্মনিবন্ধন জটিলতা
ইত্তেফাক ডেস্ক
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী ও ভোলার দৌলতখানে জন্মনিবন্ধন জটিলতায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ফলে এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে অনেকেই ঝরে পড়বে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, পিতামাতার জন্মনিবন্ধন জটিলতায় উপজেলার ১২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ২ হাজার শিক্ষার্থী গত বছরের উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্র পিতামাতার নিবন্ধন না করায় ও ছাত্রের জন্মনিবন্ধন সঠিক সময়ে না করায় এমনটি হয়েছে বলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ জানান। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়গুলো নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও তথ্য কেন্দ্রের উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা বলে ৪ হাজার ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ২ হাজার ছাত্রছাত্রীর তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে। বাকি ২ হাজার ছাত্রছাত্রীর তথ্য সংশোধন করা সম্ভব হয়নি। ফলে তারা উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’ কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যোতিশ্বর পাল বলেন, ‘বিষয়টি অবগত হয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে বিষয়টি সময়সাপেক্ষে করতে হবে।’
এদিকে, দৌলতখান (ভোলা) সংবাদদাতা জানান, ভোলার দৌলতখান উপজেলায় সার্ভার জটিলতায় জন্মসনদ প্রদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় আটকে আছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ হাজার ৫৩৩ জন শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের ভর্তিতেও জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করায় অভিভাবকদের বিপাকে পড়তে হয়েছে। দৌলতখান উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, দৌলতখান উপজেলায় মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১০৬টি। প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ১৯ হাজার ৪৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫৩৩ জন শিক্ষার্থী এখনো জন্মসনদ জমা না দেওয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার চরপাতা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অরুণ বলেন, ‘কিছুদিন আগে জন্মসনদ নিবন্ধন সার্ভারে সমস্যার কারণে এ জটিলতা হয়েছে। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানের জন্য জন্মনিবন্ধন করতে এসেছে। মা-বাবার জন্মসনদ না থাকায় অনেক অভিভাবক বিপাকে পড়েছেন।’ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হোসেন জানান, জন্মসনদের কারণে দৌলতখানে প্রাথমিকের সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থী উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি এ বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলবেন।