জরিমানার টাকা তদন্ত কর্মকর্তা মাতবর ও দালালের পকেটে

সাটুরিয়ায় সালিশের নামে প্রহসন, অসহায় মামলার বাদী

এম নজরুল ইসলাম, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

সাটুরিয়ার বিভিন্ন গ্রামে সিন্ডিকেট গঠন করে গ্রাম্য সালিশের নামে চলছে কতিপয় ব্যক্তির রমরমা বাণিজ্য। বিচারের নামে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। জরিমানার টাকা না দিলে তার ওপর নেমে আসে নানা ধরনের অত্যাচার। ভয়ে তারা কোথাও অভিযোগও করতে পারছে না। থানার নাম ভাঙিয়ে থানার কথিত সোর্স ও দালালরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সহজ সরল লোকদের মিথ্যা ঘটনার নাটক সাজিয়ে তিলকে তাল বানিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। তদন্ত চলাকালীন সময় বা মামলা বিচারাধীনের সময় অনেকে মীমাংসায় বসে হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের অর্থ। এভাবে নারী নির্যাতন মামলা আপস মীমাংসা করে আইনগত ব্যবস্থা পরিহার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে ।

জানা যায়, উপজেলার উওর রৌহা গ্রামের মৃত নুয়াব আলীর ছেলে মো. আরশেদ আলী ওরফে ঠাকুর একই গ্রামের ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব ও উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এর ধারাবাহিকতায় ৪ মার্চ নিজ বাড়ি থেকে রাস্তায় বের হলে লম্পট আরশেদ আলী পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাথরুমে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ছাত্রীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর এই সিন্ডিকেটে মামলার বাদী ও আসামিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সহায়তায় ভয়ভীতি দেখিয়ে আপসনামার নাম করে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা জরিমানার নামে হাতিয়ে নেয়।

সম্প্রতি এ ঘটনায় থানার সোর্স ও দালাল এলাকার মাতবর আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মজিদ, ইয়ার খান ও মোস্তফা আরশেদ আলীর বাড়িতে প্রহশনের সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে। সালিশে স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগের মামলার আসামি মো. আরশেদ আলী ওরফে ঠাকুরকে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে বাদীকে ৪০ হাজার টাকা ও  মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপ-পরিদর্শক এস আই বিনয় সরকারকে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা সোর্স ও দালালরা ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে ইয়ার খান ও আব্দুল মজিদের সঙ্গে যোগযোগ করা হলে তারা বিচার সালিশের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা বিচারে ছিলাম না। মোস্তফা ছিলেন, তিনি বলতে পারবেন জরিমানার টাকা কাকে দেওয়া হয়েছে।’ অপরদিকে এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই বিনয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। সাটুরিয়া থানার ওসি মো. আশরাফ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তার জানা নেই। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।