রিফাত সুলতানা। বয়স মাত্র ৩২ বছর। কাজ করতেন একাত্তর টেলিভিশনের সহযোগী প্রযোজক হিসেবে। অন্তঃসত্ত্বা রিফাত কয়েক দিন আগে স্বামী ও শাশুড়ির সঙ্গে করোনা আক্রান্ত হন। গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়েছেন। সর্বশেষ গতকাল সকালে রাজধানীর ইমপালস হাসপাতালে সিজার অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেন। সকাল থেকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল তাকে। তবে সন্তান জন্ম দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় বিকালে মারা যান রিফাত। সন্তানকে একটু কোলে নেওয়ার মতো সুযোগও পেলেন না। মা-হারানো শিশুটি বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন।
জানা গেছে, রিফাত ও তার স্বামী নাজমুল ইসলাম দুই জনই বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টেলিভিশনে চাকরি করেন। তার শাশুড়িও করোনায় আক্রান্ত হন। তিন জনের অবস্থা ক্রমান্বয়ে খারাপ হতে থাকে। তিন জনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শাশুড়ি বর্তমানে আইসিইউতে আছেন। আর স্বামী নাজমুল গতকালই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে রিফাতের অবস্থা খারাপ হতে থাকে। প্রথমে তাকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে উত্তরার কেসি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ায় গত শনিবার তাকে ইমপালস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল সকালে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সেখানেই সিজার অপারেশনের মাধ্যমে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। সকালে অপারেশনের পর বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে তার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। এরপর বিকাল ৫টার দিকে সব শেষ। চিকিত্সকরা তার মৃত্যুর কথাটি জানিয়ে দেন। শিশুটি এখন বেসরকারি হাসপাতাল এভার কেয়ারে রয়েছে।
রিফাতের সহকর্মী একাত্তর টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি ফারজানা রূপা বলেন, শুরু থেকেই একাত্তর টেলিভিশনে কাজ করতেন রিফাত সুলতানা। এরপর বিয়ে করেন। রিফাত-নাজমুল দম্পতির যমজ ছেলে রয়েছে; তাদের বয়স এখন দুই বছর।
ফারজানা রূপা বলেন, হাসপাতাল থেকে রিফাত সুলতানার লাশ আল মারকাজুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখান থেকে বনশ্রীর বাসায় নেওয়া হবে। বাসা থেকে একাত্তর টেলিভিশন কার্যালয়ে নেওয়ার পর সেখানে জানাজা শেষে তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।