সদ্য প্রয়াত বাংলা সিনেমার পর্দা কাঁপানো ৬০’র দশকের শক্তিমান অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী শুটিং-এ চুয়াডাঙ্গায় এসেছিলেন ১৯৬৯ সালে। উঠছিলেন তৎকালীন সিনেমা জগতের কীর্তিমান ক্যামেরা ব্যক্তিত্ব বেবী ইসলামের চুয়াডাঙ্গা শহরস্থ ওয়াপদাপাড়ার বাড়িতে। সেখানে অবস্থান করেছিলেন প্রায় এক মাস।
‘কখগঘঙ’ ছবিটির নায়ক, নায়িকা ও পরিচালকসহ শুটিংয়ের পুরো আউটডোর টিমের সদস্যরা ছিলেন নায়িকা কবরীর সঙ্গে। এদিকে ওই সময়কালে সিনেমার নায়িকা কবরীকে দেখার জন্যে প্রতিদিনই হাজার হাজার স্থানীয় ও এলাকার মানুষের ভিড় জমতো ওই বাড়িতে।
বেবী ইসলামের চুয়াডাঙ্গা শহরস্থ ওয়াপদাপাড়ার বাড়ি। ছবি: ইত্তেফাক
স্থানীয় পৌর কার্যালয় থেকে সরকারি কলেজ পর্যন্ত ওয়াপদাপাড়ার অর্ধ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই রাস্তাটিতে নায়িকা কবরীর অবস্থানকালীন পুরো সময়টা বাড়তি লোকজনের আনাগোনায় ভিড় লেগে থাকত। সেই থেকেই চুয়াডাঙ্গা শহরের ওয়াপদাপাড়ার ওই রাস্তাটি আপনা আপনিই ‘কবরী রোড’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
গত ৫ এপ্রিল কবরীর কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়। সেদিন রাতেই তাকে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় পরে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা ২০মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ অভিনেত্রীর মৃত্যু হয়।
ছবি: সংগৃহীত
১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের পরিচালনায় ‘সুতরাং’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে নাম লেখান দেশ বরেণ্য অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী। এরপর ‘বাহানা’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘রংবাজ’, ‘সারেং বউ’, ‘সুজন সখী’সহ অসংখ্য কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমা প্রযোজনাও করেছেন এই অভিনেত্রী। পরিচালক হিসেবে নির্মাণ করেছেন সিনেমা৷ দীর্ঘ ১৪ বছর পর দ্বিতীয় সিনেমা তৈরিতে হাত দিয়েছিলেন। ‘এই তুমি সেই তুমি’ নামের ছবিটি পরিচালনার পাশাপাশি এর কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনা করেছেন তিনি। তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ছিল ‘আয়না’।
অভিনয় ও নির্মাণের পাশাপাশি লেখালেখিও করেন কবরী। ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়েছে তার লেখা আত্মজীবনী ‘স্মৃতিটুকু থাক’।
ইত্তেফাক/এএএম