বন্ধ শিওরক্যাশ বিপাকে গ্রাহক

ইত্তেফাক রিপোর্ট

প্রাথমিকের উপবৃত্তি বিতরণ করে বেশ সুনাম অর্জন করেছিল মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস শিওরক্যাশ। এছাড়া এ সেবার মাধ্যমে মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ অন্যান্য সরকারি ভাতা পাচ্ছিলেন অনেকেই। তবে গত মাসে হঠাত্ করেই এ সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছে লাখ লাখ গ্রাহক।

জানা গেছে, শিওরক্যাশ সেবাটি পরিচালনা করে আসছিল প্রগতি সিস্টেমস। আর এ কোম্পানির সঙ্গে কাজ করছিল রাষ্ট্র মালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক। এছাড়া বাংলাদেশ কমার্স, যমুনা এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস পরিচালনা করে আসছিল তাদের মাধ্যমে। কিন্তু সেবাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের সঙ্গে সঙ্গে এখন এই ব্যাংকগুলোও পড়েছে বিপাকে। সেবা বন্ধ হওয়ায় এখন এই চারটি ব্যাংকের মাধ্যমে বৃত্তি, ভাতা বিতরণ, ভর্তুকি প্রদানসহ নানা ক্ষেত্রে যে সেবা দেওয়া হচ্ছিল সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে।

সেবাটি বন্ধ হওয়ার আগেও তাদের সঙ্গে প্রায় ১০ লাখ সক্রিয় গ্রাহক ছিল। তবে সব              মিলে ২ কোটি ১৪ লাখ ২৭ হাজার গ্রাহক শিওরক্যাশে অ্যাকাউন্ট খুলেছিল। এক সময় মাসে কয়েক শ কোটি টাকার লেনদেন হলেও জানুয়ারিতে তা নেমে আসে ১৮০ কোটি টাকায়। আর ফেব্রুয়ারিতে যা কমে হয় ১১৪ কোটি টাকা।

বন্ধ হওয়ায় আগ পর্যন্ত শিওরক্যাশের কাছে ল্যাকটেটিং মাদারসহায়তা কর্মসূচি ও আখচাষিদের ভর্তুকি বিতরণ করছিল। তাছাড়া পল্লী বিদ্যুতের বিল এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের বেতনসহ বিভিন্ন সেবাও ছিল কোম্পানিটির। তবে শিওরক্যাশ সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছিল প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করে।

সাম্প্রতিক সময়ে মাঠ পর্যায়ে কয়েক দফা কর্মী ছাঁটাই করেছে অপারেটরটি। বর্তমান সময়ে এই খাতের প্রতিযোগিতা আর প্রযুক্তির নতুন উদ্ভাবনে অনেকটা পিছিয়ে পড়াতেই ব্যবসায় সুবিধা করতে পারছিল না অপারেটরটি, এমনটাই বলেছেন ব্যাংক থেকে ছাঁটাই হওয়া একাধিক কর্মী।

জানা গেছে, পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) হিসেবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি সিস্টেমস লিমিটেড এখন তাদের লাইসেন্সকে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারে (পিএসপি) রূপান্তর করতে আবেদন করেছে। আর এর শর্ত হিসেবেই পিএসও সেবা আগে বন্ধ করতে হতো।