চলমান কঠোর লকডাউনে প্রবাসীদের ফেরত পাঠাতে গতকাল শনিবার নির্ধারিত ১৪টি ফ্লাইটের অর্ধেকই বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাঁচটি ফ্লাইট ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি ফ্লাইট রয়েছে। পর্যাপ্ত যাত্রীর অভাব এবং সৌদি আরবে ল্যান্ডিং অনুমতি না পাওয়ার কারণেই ফ্লাইটগুলো বাতিল হয়েছে।
লকডাউনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিমানবন্দরে এসে অনেকে শুনছেন ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। যাদের ভিসার মেয়াদ শেষের পথে, তারা আছেন বেকার হওয়ার ঝুঁকিতে। পরে এই সব যাত্রী বিমানবন্দরে, রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকায় সোনারগাঁও হোটেলের সৌদি এয়ারলাইনসের অফিসের সামনে ও মতিঝিল বিমান অফিসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী সৌদিগামী যেসব যাত্রী গত ১৪ এপ্রিল থেকে ফ্লাইট মিস করেছেন, তাদের জন্য আজ রবিবার থেকে সৌদি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট চালু করা হবে। গতকাল দুপুর ২টার দিকে সৌদি এয়ারলাইনসের প্রধান শাখার ম্যানেজার জাহিদুল আমিন প্রবাসীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন।
জাহিদুল আমিন বলেন, ১৪ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত যারা যারা ফ্লাইট মিস করেছেন বা যেতে পারেননি, তাদের প্রত্যেককে সৌদি আরবে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। আজ রবিবার থেকে ১৪ তারিখের যাত্রীদের ফ্লাইট শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ১৫ এপ্রিলের টিকিট ১৯ এপ্রিল, ১৬ এপ্রিলের টিকিট ২০ এপ্রিল, ১৭ এপ্রিলের টিকিট ২১ এপ্রিল এবং ১৮ এপ্রিলের টিকিট ২২ এপ্রিল দেওয়া হবে। ১৯ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত ফ্লাইটের সৌদি যাত্রীদের পরবর্তীতে তারিখ জানানো হবে।
১৪ থেকে ২১ এপ্রিলে যাদের টিকিট করা ছিল বা আছে, তাদের নতুন করে টিকিট রি-ইস্যু করা লাগবে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। পরে কোভিড টেস্ট করে যেতে হবে।
জাহিদুল আমিন বলেন, ‘যারা টিকিট পাবেন না তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। কারণ এখন সবগুলো করা সম্ভব নয়। শুধু আজ রবিবার যে ফ্লাইটগুলো আছে, আমরা সেগুলো ফুলফিল করার চেষ্টা করছি।’
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক তৌহিদ উল আহসান বলেন, গতকাল শনিবার পাঁচটি দেশে মোট ১৪টি বিশেষ ফ্লাইট নির্ধারিত ছিল। কিন্তু নানা কারণে সাতটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে বিমানের পাঁচটি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাজেট এয়ারলাইনস ‘ফ্লাই দুবাইয়ের’ দুটি ফ্লাইট রয়েছে। তবে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় মাসকাটের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে গেছে সালাম এয়ার।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ শাখার উপমহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার বলেন, সৌদি আরবে ল্যান্ডিং পারমিশন না পাওয়ায় ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া যাত্রীর সংকটের কারণে দুবাইয়ের দুটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
ইউএস বাংলার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, সপ্তাহে ৯টি ফ্লাইট ঢাকা থেকে দুবাই, সাতটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে মাসকাট, চারটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে দোহা ও একটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরে পরিচালনা করা হবে। তবে প্রথম দিনে দুবাইয়ের একটি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। মাত্র ২০ জনের মতো যাত্রী পাওয়া গেছে। এখানে শুধু যাত্রী থাকলেই হচ্ছে না, করোনা টেস্টের রিপোর্টও লাগবে। লকডাউনে অনেকে আসতেও পারছেন না। সব মিলিয়ে যাত্রীর সংকট আছে।
প্রবাসী কর্মীরা বলছেন, ‘লকডাউনে যান চলাচল বন্ধ। গাড়ি ভাড়া করে ঢাকায় আসার পর জানা যাচ্ছে ফ্লাইট বাতিল। এখন আমরা কোথায় যাব? আবার গাড়ি ভাড়া কে দেবে? আর যাদের ভিসার মেয়াদ বেশি দিন নেই, তাদের কপাল পুড়বে সময়মতো যেতে না পারলে।’
প্রসঙ্গত :প্রবাসী কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরা নিশ্চিত করতে গতকাল শনিবার সকাল ৬টা থেকে পাঁচটি দেশে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এই পাঁচটি দেশ হচ্ছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার ও সিঙ্গাপুর। শুধু প্রবাসী কর্মীরা এসব ফ্লাইটে যেতে পারবেন। আর দেশে এলে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে প্রবাসী কর্মীদের। এই পাঁচ দেশে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ১২টি এয়ারলাইনসকে অনুমতি দেওয়া হয়।
এই ১২টি এয়ারলাইনস হচ্ছে—বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস, ওমান এয়ার, সালাম এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, ইতিহাদ, এয়ার অ্যারাবিয়া, এয়ার অ্যারাবিয়া আবুধাবি, ফ্লাই দুবাই ও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস।