চট্টগ্রা?মের বাঁশখালী উপ?জেলার গন্ডামারায় নির্মিতব?্য কয়লা বিদ্যুেক?ন্দ্রে শ্রমিক-পু?লিশ সংঘর্ষে গুলি?বিদ্ধ হয়ে পাঁচ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হ?য়ে?ছেন প্রায় অর্ধশতা?ধিক শ্রমিক। এদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ বলে জানা গেছে। গতকাল শ?নিবার সকা?ল ৯টার দি?কে এ ঘটনা ঘটে। মার্চ মাসের বেতন প্রদান ও শ্রমঘণ্টা কমানোর দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করলে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া গুলিতে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৩ লাখ টাকা ও আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
নিহতরা হলেন—বাঁশখালীর গন্ডামারা ইউনিয়নের মৃত মাওলানা আবু ছি?দ্দি?কের পুত্র আহমদ? রেজা (৩০), কু?মিল্লার চান্দপুর উপজেলার নজরুল ইসলা?মের পুত্র শুভ (২৬), চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানার অ?লি উল্লাহর পুত্র র?ণি (২৮), কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপ?জেলার ফালু মিয়ার পুত্র মাহামুদুল হক রাহাত (৩২) ও রায়হান (২৫)। মরদেহগুলো উপ?জেলা স্বাস্থ?্য কমপ্লেক্সে রাখা হ?য়ে?ছে।
স্থানীয়? ও প্রত্যক্ষদর্শী সূ?ত্র জানায়, রমজান মা?সে শ্রমঘণ্টা ১২ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ১০ ঘণ্টা করা এবং মার্চ মাসের বেতন প্রদানসহ প্রতিমাসের ৫ তারিখে বেতন প্রদানের দাবিতে গত শুক্রবার থেকে ক্ষোভ জানিয়ে আসছিলেন শ্রমিকরা। এ নিয়ে গতকাল সকালে বিদ্যুেক?ন্দ্রের সমন্বয়কারী মো. হাদিলের সঙ্গে শ্রমিকদের আলোচনা চলাকালে কথা কাটাকা?টি হয়। এরই জের ধ?রে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠ?লে পু?লিশ এসে বাধা দেয়। এ সময় কয়েকজন বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়। এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হ?য়ে ঘটনাস্থ?লেই ঐ পাঁচ শ্রমিক প্রাণ হারান। এছাড়া আহত হন আরো অর্ধশতা?ধিক শ্রমিক। আহত?দের? চট্টগ্রাম মেডিক্যাল ক?লেজসহ বি?ভিন্ন হাসপাতা?লে পাঠানো হয়েছে। এদিকে শ্রমিক হতাহতের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা বিদ্যুেকন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নিহত শ্রমিক আহমদ রেজার পরিবারের সদস্যরা জানান, সংঘ?র্ষ চলাকালে নি?র্বিচা?রে গু?লি চালানো হ?য়ে?ছে। গু?লি?তে অ?নেক শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। পাঁচ শ্রমি?কের লাশ পাওয়া গেলেও নিহত আরো অ?নেক শ্রমিকের লাশ প্রকল্প এলাকা থেকে বের করতে দেয়নি বিদ্যুেকন্দ্র কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ঘটনার পর থেকে কোনো গণমাধ্যমকে বিদ্যুেকন্দ্রের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান ও পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক বলেন, ‘বিদ্যুেকন্দ্রের শ্রমিকরা যে দাবিগুলো জানিয়েছেন তার মধ্যে কয়েকটি দাবি বিদ্যুেকন্দ্র কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছিলেন। তবে রমজান মাসে কাজের সময়সীমা কমানোর দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠায় তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হন শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশসহ বেশ কিছু শ্রমিক আহত হয়েছেন, নিহত হয়েছেন পাঁচ শ্রমিক। এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারপ্রতি ৩ লাখ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে বিদ্যুেকন্দ্র কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।’
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় কিছু উন্নয়ন বিদ্বেষী কুচক্রী মহলের উসকানিতে শ্রমিকরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ঐ চক্রের সদস্যদের চি?িহ্নত করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। ঘটনা তদন্তে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট প্রদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য, শিল্পগ্রুপ এস আলমের মালিকানায় এস এস পাওয়ার প্ল্যান্ট নামে এই বিদ্যুেকন্দ্রটি নির্মাণ হচ্ছে। একটি চীনা কোম্পানি এখানে অর্থায়ন করেছে। বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী জানান, এস আলম গ্রুপ ক্ষতিপূরণের টাকা ও হতাহতদের চিকিত্সার ব্যয় বহন করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।
এর আগে ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল এই বিদ্যুেকন্দ্রের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে চার জন নিহত হয়েছিল। এর কিছুদিন পর আবারও সংঘর্ষের ঘটনায় আরো এক জন নিহত হন।