গত বছরের ন্যায় এ বছরও দেশের সাতটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সব ঠিক থাকলে আগামী ৩১ জুলাই পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যারা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখছ বা আগ্রহের তালিকায় রয়েছে, তাদের জন্য দিক-নির্দেশনামূলক কিছু পরামর্শ দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক জন শিক্ষার্থী। লিখেছেন— মুসাদ্দিকুল ইসলাম তানভীর
পৃথিবীর শীর্ষ ধনীর তালিকায় থাকা বিল গেটস কৃষির প্রতি ঝুঁকছেন। আমেরিকায় বহু জমিও কিনেছেন। আমেরিকার সবচেয়ে বেশি কৃষিজমির মালিকও এখন তিনি। কিন্তু হঠাত্ কৃষির দিকে কেন? কারণ একটাই খাদ্যের সংকটময় পৃথিবীতে কৃষির শিক্ষা, গবেষণা ও উত্পাদনের বিকল্প নেই। এক সময় কেউ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কথা চিন্তাই করত না। স্বপ্ন থাকত চিকিত্সক বা প্রকৌশলী হবার। কৃষির ওপর উচ্চশিক্ষা গ্রহণ, বিষয়টি ভালোভাবে গ্রহণ করত না। কিন্তু সময় এখন পালটেছে। কৃষিকে উচ্চশিক্ষা ও পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছে আধুনিক ও সচেতন শিক্ষার্থীরা। এ পেশাকে বিশ্ব জুড়ে বলা হচ্ছে সম্ভাবনাময় সবুজ ক্ষেত্র। এক সময় দেশের ৭ কোটি মানুষের খাদ্যের অভাব ছিল, কিন্তু এখন ১৮ কোটি মানুষের খাদ্যের চাহিদার ঘাটতি নেই বললেই চলে।
কৃষিকে এগিয়ে নিতে দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একাধিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি দেশকে কিছু দিয়ে থাকে তাহলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই দিয়েছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভালো চাকরি, বিদেশে অফুরন্ত সুযোগ, সব মিলিয়ে কৃষি খাতে রয়েছে উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের হাতছানি।
—ইমরান খান
কৃষি অনুষদ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
পৃথিবীর যে সব দেশ আজ শিল্পোন্নত তারাও সর্বপ্রথম কৃষি আধুনিকায়নের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। সুতরাং, কৃষির বিকল্প নেই। আর এই কৃষিকে আধুনিক জ্ঞানচর্চায় এগিয়ে নিতে এদেশে কাজ করে যাচ্ছে একাধিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে নিজের ক্যারিয়ার কীভাবে গড়বেন। তাদের জন্য বলব, কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে দেশে-বিদেশে সুযোগ রয়েছে।
ভালো পড়াশোনার মাধ্যমে কৃষি ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক হিসেবে যোগদানের সুযোগ, বিসিএসে টেকনিক্যাল ও সাধারণ ক্যাডারসহ সর্বোচ্চ ক্যাডারে আবেদনের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া বিনা, বারি, ধান গবেষণা, মত্স্য গবেষণা, বিএলআরআই, পাট, ইক্ষু, চা গবেষণাসহ বিভিন্ন সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শুধু তাই নয়, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানেও কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক, সার কারখানা, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, কীটনাশক তৈরির কারখানা, পশুর খামার, বিভিন্ন মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানসহ ব্যক্তিমালিকানাধীন দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে যোগদানের সুযোগ তো থাকছেই।
—আশিকুর রহমান
কৃষি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়