গাজী মো. শফিকুল হক
ঝিনাইদহের অজপাড়া গাঁয়ের মেয়ে সোনিয়া আক্তার টুম্পা, ২০০৩ সালে প্রথম জাতীয় জুনিয়র সাঁতারে অংশ নিলেও ব্যাপক সাড়া ফেলেন ২০০৬ সালে, সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সের নীলজল তোলপাড় করে জিতেছিলেন ১১টি স্বর্ণপদক, পরের বছর উঠে আসেন সিনিয়র পর্যায়ে। নৌবাহিনীর সাঁতার কোচদের চোখে পড়ে যান এই কিশোরী, সাঁতারু কোটায় ভালো পদে চাকরি দিয়ে তাকে তুলে নেওয়া হয় ব্যারাকে। ২০০৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় সাঁতারে সেরা!
২০১৭ সালে ইংল্যান্ড থেকে এসে জাতীয় জুনিয়র সাঁতারে অংশ নিয়ে চমকে দিয়েছেন জুনায়না আহমেদ; ১১টি ইভেন্টে অংশ নিয়ে আটটি রেকর্ডসহ ১০টি স্বর্ণপদক জিতে আলোচনায় আসেন লন্ডনে নিয়মিত অনুশীলন করা এই কিশোরী। পরে বড়দের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নেমেও সফল, ২০০ মিটার ফ্রি স্টাইল, ২০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোক, ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে রেকর্ডসহ চারটি স্বর্ণ জিতেছিলেন তিনি; ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলে রেকর্ড গড়তে না পারলেও স্বর্ণ জিতে দেশের দ্রুততম নারী সাঁতারুর খেতাব জিতেন।
লন্ডনে মাত্র ছয় বছর বয়সে চাচার উত্সাহে সাঁতার শেখা শুরু জুনায়নার; তবে মূল ধারার সাঁতারে আসতে অনুপ্রেরণা মাইকেল ফেলপস। লন্ডন অলিম্পিক থেকে তার ভীষণ ভক্ত জুনায়না। লন্ডন চ্যাম্পিয়নশিপ, এসেক্স চ্যাম্পিয়নশিপসহ ইংল্যান্ডের বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন তিনি। সাঁতারে আসা প্রসঙ্গে জানান, ‘ছোটবেলা থেকে সাঁতার ভালোবাসি, ইংল্যান্ডে অনেক সুবিধা আছে, সেখানে প্রস্তুতি নেওয়াও সহজ। তবে পড়াশোনা, পরীক্ষার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে সাঁতার চালিয়ে নিতে হয়।
জাতীয় সাঁতারের ২০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে ২ মিনিট ৩৪.১৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে রেকর্ড গড়লেও গুয়াংজুতে তিনি (২:৩৪.৯৫) হন ৩৩ জনে ৩২তম। লন্ডন থেকে এসে সাঁতারের সব আলো কেড়ে নেওয়া জুনায়না সোনালি হাসি দিতে পারেননি ২০১৯ এসএ গেমসে, জিতেন দুইটি ব্রোঞ্জ। তার পরও সবকিছু মিলিয়ে জুনায়নার মা রোজিনা আহমেদ মেয়ের অর্জনে খুবই খুশি।
সাঁতারু সোনিয়া আক্তার টুম্পা বলেন, ‘অনেক দিন পর এতোগুলো ইভেন্ট করলাম। অনুশীলনের ঘাটতি ছিল। জুনায়নাও ভালো করছিল। ফিটনেস সর্বোচ্চ পর্যায়ে না থাকা অবস্থায় বেশি ইভেন্ট করলে আমার সংস্থা নৌবাহিনী বঞ্চিত হতো, আমারও চোট পাওয়ার ঝুঁকি থাকত। তবে স্বল্প সময় অনুশীলন হলেও কঠোর পরিশ্রম করেছি। তার পরও এত ভালো হবে ভাবিনি। আসলে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেছি।’ সাফল্য বদলে দিচ্ছে এই তরুণীদের জীবন। এভাবেই চলতে থাকলে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশের মেয়েরা।