জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু নিজের অভিনয় মুন্সিয়ান শুধু নাটক বা সিনেমায় নয়, গানের জগতেও নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। গুণী এই মানুষটি শোবিজ অঙ্গনের নানা বিষয় নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
বর্তমান কাজ ও ঈদ ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই—
এবারের ঈদ উপলক্ষে কোনো কাজ করছি না। তাই কোনো ব্যস্ততা নেই। করোনার কারণে সব বন্ধ করে দিয়েছি। তবে কিছুদিন আগে ৭টি ছবি ও কিছু নাটকের কাজ শেষ করেছি।
করোনায় শোবিজ অঙ্গন অনেকটাই কাবু। এমন অবস্থায় অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?
যারা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন তারা অবিবেচক ও নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিচ্ছেন। তিনি হয়তো মনে করছেন সে তরুণ, তার কিছু হবে না। তবে তার কারণে পরিবার ও প্রতিবেশিরা আক্রান্ত হচ্ছেন। আমরা যাদের করোনা আক্রান্ত হয়ে চলে যেতে দেখলাম তারাও কিন্তু এভাবেই আক্রান্ত হয়েছিলেন।
করোনায় গুণী অভিনেতা এ এম মহসীন চলেন গেলেন। ওনার সঙ্গে আপনার কোনো স্মৃতির কথা জানতে চাই—
মহসীন ভাইয়ের সঙ্গে আমার অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে। মহসীন ভাই শুধু কলিগ ছিলেন না, শিক্ষক হিসেবে মানতাম তাকে। অভিনয় সম্পর্কে নানা প্রশ্ন করতাম, তিনি হাসিমুখে উত্তর দিতেন। একটা কথা খুব মনে পড়ছে। ২০০০ সালের দিকে আমরা একটি প্রোগ্রামে ইংল্যান্ড গিয়েছিলাম। সেখানে একসঙ্গে ছিলাম। তখন বুঝেছিলাম তিনি কতটা আপন করে নিতে পারেন সবাইকে। সেই মানুষটি এত তাড়াতাড়ি চলে যাবেন ভাবতে পারিনি। খুবই মর্মাহত আমি।
দর্শকরা এখন ইউটিউবমুখী হচ্ছে। এতে টিভি নাটকের ভবিষ্যত্ কোনদিকে যাচ্ছে বলে মনে করেন?
নাটক আগে টিভিতে দেখতেন, এখন মোবাইল বা ল্যাপটপে দেখছেন। আমি কী কন্টেন্ট দেখবো সেটাই বড় কথা, কোথায় দেখছি সেটা বড় কথা না। মাধ্যম পরিবর্তন হবেই।
উন্মুক্ত মাধ্যমে নাটক রিলিজ হওয়ায় মানহীন কাজের ছাড়াছড়ি। এটা ভালো নাটকের ওপর প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন না?
হ্যাঁ, প্রভাব তো পড়ছেই। এতে মানুষের রুচি নিম্নমুখি হচ্ছে। সেটা আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধমের নানা মন্তব্য দেখেই বুঝতে পারি। উন্মুক্ত মাধ্যম আসায় ভালো খারাপ দু-দিকই এসেছে। ভালো দিক হলো ঘরে বসেই বিভিন্ন দেশের ভালো কাজ দেখা যাচ্ছে। আমার মনে হয়, শুধু ভিউ বাণিজ্যের কারণে মানহীন কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আমাদের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে নিম্নরুচির মানুষের রুচির পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে।
নিজেস্ব ঘরারার শিল্পী ছাড়া প্রযোজক-পরিচালকরা কাজ করছেন না। এতে করে নতুন শিল্পী তৈরির পথ রোধ হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?
এটাকে আমি তেমন একটা খারাপ চোখে দেখছি না। এখন ৪শ’র বেশি পরিচালক আছেন। তারা নিজেস্ব শিল্পী দিয়ে কাজ করলে তো কয়েক হাজার শিল্পীর কাজ করা হলো। তাছাড়া আমি তো দেখছি নতুন অনেক শিল্পীই ভালো কাজ করছে। আমি তো কোনো ঘরানার মাঝে পড়ি না। তারপরও এত কাজ করি কী করে!
নাটকে চরিত্র সংকট হরহামেশাই দেখা যাচ্ছে। এতে একটি ভালো গল্প কতটা তুলে ধরা সম্ভব?
হ্যাঁ, এর কারণে তো গল্প তুলে ধরতে প্রভাব পড়ছেই। মূলত বাজেট কম হওয়ায় পরিচালকরা এটা করছেন। আবার টেলিভিশন বা প্রযোজকরা যে শিল্পীদের নিতে বলছেন। তাদের কারণেও বাধ্য হয়ে চরিত্র কমিয়ে কাজ করতে হয়। এতে যে নাটক বা গল্পের মান কমে যাচ্ছে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।
নাটক ও ওয়েব সিরিজে ‘অশ্লীলতা’ একটি আপেক্ষিক শব্দে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে আপনার সুচিন্তিত মতামত জানতে চাই—
আমাদের দেশে গল্পের অভাব পড়েনি। আমাদের ভালো গল্প তুলে ধরলে কিন্তু দর্শকরা গ্রহণ করেন। আমিও তো একটি ওটিটির জন্য কাজ করলাম। সেখানে তো এমন দৃশ্য ছিল না। তবু তো দর্শকরা গ্রহণ করলেন। শুধু অন্যকে কপি করতে গিয়ে তাদের অশ্লীলতা রাখতে হবে বিষয়টি কিন্তু তেমন না। তারা একটা ফর্মেট তৈরির অপচেষ্টা করছে। এটা আসলে তাদের মেধাশূন্যতার কারণে হচ্ছে।
শিল্পীদের শেষজীবনে এসে নামের সঙ্গে দুঃস্থ শব্দটি যোগ করা নিয়ে অনেকেই কথা বলেন। এ নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?
প্রথমত, বেশিরভাগ শিল্পী কিন্তু বৈশিক হয় না। তারা ভাবেন নাম-যশ নিয়ে বেঁচে থাকবেন। তাই শেষজীবনে কাজের অভাবে এমন অবস্থায় পড়েন। দ্বিতীয়ত, আমাদের অনেক শিল্পীই ইচ্ছে করে নিজেদের দুঃস্থ পরিচয় দেন। অথচ তাদের বাড়ি-গাড়ি রয়েছে। এমন অনেকের নামই আমি বলতে পারি। সে কী করে দুঃস্থ হয় বুঝতে পারি না।