শের-ই-বাংলা মেডিক্যালের করোনা ওয়ার্ডের সমস্যা নিয়ে জরুরি বৈঠক

বরিশাল অফিস

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের সমস্যা ও সংকট এবং সদর (জেনারেল) হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছেন স্থানীয় শীর্ষ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সমস্যা সমাধানের জন্য গতকাল রবিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদল, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস, জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার এবং সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক হাসান। মেডিক্যালের নবনিযুক্ত পরিচালক মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান শাহিন এবং সিভিল সার্জন ডা. মো. মনোয়ার হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় হাসপাতালের মূল ভবনের এবং করোনা ইউনিটের সমস্যা ও সংকট তুলে ধরেন চিকিত্সকরা। তারা জানান, এই হাসপাতালে বর্তমানে চিকিত্সক, এমএলএসএস ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং আইসিইউ টেকনিশিয়ানের চরম সংকট রয়েছে। করোনা ইউনিটে এখন পর্যন্ত লিফট চালু না হওয়ায় রোগীদের ওঠানামা করতে সমস্যা হচ্ছে। অক্সিজেন সিলিন্ডার ওঠানামা করতে করতে করোনা ইউনিটের নতুন ভবনের সিঁড়িটি ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। গত এক বছর ধরে সিটি করপোরেশন ময়লা অপসারণ না করায় পুরো হাসপাতাল ক্যাম্পাস ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এসব সমস্যার আশু সমাধান করা না হলে শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে প্রত্যাশিত চিকিত্সা সেবা পাওয়া সম্ভব নয়। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদল আগামী ১০ দিনের মধ্যে শের-ই-বাংলা মেডিক্যালের এসব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। করোনা ওয়ার্ডে নতুন দুটি এবং পুরোনো ভবনে দুটি লিফট দ্রুত চালু, আগামীকাল (আজ সোমবার) থেকে সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে মেডিক্যাল বর্জ্য অপসারণ এবং আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগকৃত জনবল দিয়ে আপাতত সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ সময় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস বলেন, বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলা হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ বেড, বরগুনা হাসপাতালে ১০টি, পিরোজপুরে পাঁচটি, ঝালকাঠীতে পাঁচটি এবং ভোলা জেলা হাসপাতালে ১০ বেডের আইসিইউ স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। জেলা হাসপাতালগুলোতে হাই ফ্লো ন্যাজল ক্যানোলা দিয়ে মুমূর্ষু রোগীদের সেবা অব্যাহত রাখা হচ্ছে। এসব হাসপাতালে ন্যাজল ক্যানোলা বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান। সভা শেষে শেবাচিম ও সদর (জেনারেল) হাসপাতালের মূল ভবন এবং করোনা ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, শনিবার দৈনিক ইত্তেফাকে ‘শের-ই-বাংলা মেডিক্যালের করোনা ওয়ার্ডে নানা সংকট’ শীর্ষক এবং রবিবার সদর (জেনারেল) হাসপাতাল নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।