কেশবপুরে পশুহাট দখলের চেষ্টা যুবলীগ নেতাসহ আটক ৩

১১টি মোটরসাইকেল জব্দ

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা

যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া পশুহাট অবৈধভাবে দখল করতে গিয়ে সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়কসহ তিন জন পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। এ সময় ১১টি মটরসাইকেল জব্দ করা হয়। কেশবপুর থানার ওসি জসিমউদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, এলাকার চেয়ারম্যান সামছুদ্দীন দফাদারের প্রচেষ্টায় মশিয়ার রহমান দফাদার, আব্দুর রশিদসহ ২০-২৫ জন ব্যক্তি পশুহাটটি গড়ে তোলেন। সপ্তাহের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার এখানে হাট বসে। প্রতিহাটে শতাধিক গরু ও ৬০-৭০টি ছাগল বিক্রি হয়। ২০১৯ সালে হাটটি ডাকে আসার জন্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়। সাতবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও পশুহাট কমিটির সভাপতি সামছুদ্দীন দফাদার বলেন, গত ৮ এপ্রিল পৌরসভার রামচন্দ্রপুর এলাকার লিটন গাজী ২৮ হাজার ৭০০ টাকায় সাতবাড়িয়া কাঁচা বাজারের ইজারা পান। ঐ কাঁচা বাজারের সঙ্গে পশু হাটের কোনো সম্পর্ক না থাকার পরও গত ১৪ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে লিটন গাজী ৩০-৩৫ জন যুবক নিয়ে পশুহাটটির দখল নিতে যায়। একপর্যায়ে হাট কমিটি ও লিটন গাজীর লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। শনিবার সকালেও লিটন গাজীর লোকজন ১০/১৫টি মটরসাইকেলযোগে পুনরায় ঐ হাটের দখল নিতে যায়। খবর পেয়ে কেশবপুর থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশ টিম সাতবাড়িয়া পশুহাট অবৈধভাবে দখলের চেষ্টার অভিযোগে কাঁচা বাজারের ইজারাদার লিটন গাজী, সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ ও সাবেক মেম্বার মোহাম্মদ আলীকে আটক করে। এ সময় তাদের ব্যবহূত ১১টি মটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হোসেন আলী, মশিয়ার রহমান দফাদারসহ স্থানীয় অনেকেই বলেন, আমজাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনীর দ্বারা হাটটি দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, বর্তমানে যারা হাটটি নিয়ন্ত্রণ করছে আপাতত তারাই থাকবে। লকডাউন উঠে গেলে দুই পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি নিরসন করা হবে।