‘কঠোর’ বিধিনিষেধে ঢিলেঢালা ভাব

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারঘোষিত ‘কঠোর’ বিধিনিষেধের গতকাল রবিবার ছিল পঞ্চম দিন। তবে যতই দিন গড়াচ্ছে রাস্তায় বেড়েছে যানবাহন ও মানুষের চাপ। মানুষের ঢাকা ছাড়া বন্ধ হয়নি। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় শুরু থেকেই প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস বা মোটরসাইকেলে যাত্রীরা ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন। কিন্তু এসব পরিবহনের ভাড়া বেশি হওয়ায় এখন অনেকেই ট্রাক বা পিকআপে যাচ্ছেন।  মহাসড়কে ট্রাক বা পিকআপ দেখলে যাত্রীরা হাত উঠিয়ে থামানোর চেষ্টা করছেন। অবশ্য রাজধানীতে চেকপোস্টে আগের মতোই গাড়ি থামিয়ে পুলিশ মুভমেন্ট পাশ আছে কি না চেক করছে। আবার অনেক পয়েন্টে দেখা গেছে পুলিশের ঢিলেঢালা ভাব। সর্বোপরি সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালনে দেখা গেছে চরম অনীহা। অনেককেই প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে গিয়ে গলিতে বসে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেলেই তারা আবার ঘরে ঢুকে যাচ্ছেন।    

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কর্মহীন অনেক দিনমজুর রাস্তায় বের হয়েছেন কাজের সন্ধানে। রাস্তায় রিকশা, প্রাইভেটকারের পাশাপাশি বেড়েছে চুক্তিভিত্তিক মোটরসাইকেল চলাচল। যদিও রাইড শেয়ারিং বন্ধ রয়েছে। ব্যাংকসহ জরুরি যেসব অফিস খোলা রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা রাস্তায় নেমে কর্মস্থলে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। গণপরিবহন না থাকায় কেউ এক মোড় থেকে আরেক মোড় পর্যন্ত রিকশায় আবার কেউ ভাড়া করে প্রাইভেটকারে পৌঁছান। অনেকেই মোটরসাইকেলে যাত্রা করে পথে পুলিশের বাধার মুখেও পড়েছেন। মোটরসাইকেলে এক জনের বেশি চলাচল করতে দিচ্ছে না পুলিশ।

পল্টন মোড় চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. রাফি বলেন, আজ (গতকাল) কিছু অফিস ও ব্যাংক খোলার কারণে সড়কে মানুষের চাপ যেমন বেড়েছে, তেমন বেড়েছে গাড়ির চাপও।  তিনি বলেন, প্রত্যেককে চেক করা হচ্ছে। প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের প্রত্যেক যাত্রীর মুভমেন্ট পাশ আছে কি না দেখা হচ্ছে।

এদিকে অন্য দিনের থেকে গতকাল দোকানপাটও  আগের কয়েক দিনের তুলনায় বেশি খোলা ছিল। কোনো কোনো এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছে না, এমন দোকানও খোলা থাকতে দেখা গেছে। কাজের সন্ধানে রাস্তায় বের হওয়া কয়েক জন দিনমজুরের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, বিধিনিষেধের গত চার দিন হাতে থাকা টাকা খরচ হয়েছে ঘরে বসে। তাই তারা কাজের সন্ধানে বের হয়েছেন। রাজধানীর রামপুরা ব্রিজে কথা হয় নির্মাণশ্রমিক সিদ্দিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি জোগালি হিসেবে কাজে যাই। কিন্তু এখন সব বন্ধ থাকায় কাজ নাই। ঘরে বসে কত দিন খাওয়া যায়? তাই রাস্তায় বের হয়েছি কোনো কাজ যদি পাওয়া যায়।’ আবার ঘরে বসে থাকতে থাকতে অনেকের একঘেয়েমি চলে আসায় তা কাটাতে রাস্তায় বের হয়েছেন বলেও জানান অনেকে। এছাড়া কয়েক জন মিলে একসঙ্গে বিভিন্ন শপিংমলের সামনে বসে আড্ডা দিতেও দেখা গেছে।

রাজধানীর গাবতলী গরুর হাটসংলগ্ন এলাকায় দেখা গেছে পুলিশের কড়া নজরদারি। একটু পরপর চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। কিন্তু পুলিশের নজর এড়াতে যাত্রীরা গাবতলী থেকে সামনে গিয়ে আমিনবাজার ব্রিজের ওপরে গিয়ে দাঁড়িয়ে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল পিকআপ বা ট্রাকের জন্য অপেক্ষা করছেন।

আমিনবাজার ব্রিজের ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা এক যাত্রী মোহাম্মদ আব্বাস আহমেদ ট্রাক থামানোর চেষ্টা করছেন। এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘আমি যাব খুলনায়। শুনেছি লকডাউন আরো বাড়তে পারে। তাই ঢাকায় থেকে কী করব। সামনে ঈদ। এজন্য এখনই ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি  চলে যাচ্ছি।’

জানা গেছে, ঢাকা থেকে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত প্রাইভেটকারে জনপ্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মোটরসাইকেলে জনপ্রতি এক হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা নিচ্ছে।