নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে দুর্বৃত্তরা অপহরণ করে নির্যাতন করেছে। ঐ শিক্ষার্থীর নাম রাব্বি। অপহরণকারীরা তাকে একমাস অজ্ঞাত স্থানে রেখে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতনের পর গত ১৫ এপ্রিল রামপুরা এলাকায় ছেড়ে দেয়। এরপর রামপুরা থেকে একজন রিকশাচালক তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। গতকাল রবিবার রাব্বীর পরিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিচারের দাবিতে আসেন এবং সাংবাদিকদের কাছে অপহরণ ও নির্যাতনের বর্ণনা দেন।
রাব্বি জানিয়েছেন, অপহরকারীরা তাকে একটি ঘরে একটানা এক মাস আটকে রেখেছিল। অনেকবার তারা তার শরীরে ইনজেকশন দিয়েছে। একপর্যায়ে তারা তার চুল কেটে দেয়। শরীরের নানা জায়গায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে পোঁচ দিয়ে ক্ষত সৃষ্টি করে সেখানে লবণ ছিটিয়ে দেয়। অপহরণকারীদের কেউ কেউ তাকে খুনের পরিকল্পনা করলেও তাকে হত্যা না করে ছেড়ে দেয়।
প্রেস ক্লবারে সামনে রাব্বীর বাবা মো. আলী ও মা জেমি পারভিন সাংবাদিকদের জানান, গত ২০ মার্চ রাতে রাব্বি তার মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে বাইরে বেরিয়েছিলেন। তারপর থেকে গত ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত রাব্বী নিখোঁজ ছিলেন। কোথাও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যার পর রামপুরা থানার এক এসআই রাব্বির বাবাকে ফোন করে জানান, রাব্বীকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় একটা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি যেন দ্রুত ওই ক্লিনিকে চলে যান। সেখানে যাওয়ার পর চিকিত্সকদের পরামর্শে ছেলেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান মো. আলী। ক্ষততে সেলাইয়ের পর ছেলেকে নিয়ে তারা তাদের ধানমন্ডির বাসায় চলে যান।
তার কাছ থেকে অপহরণকারীদের দাবি কী ছিল- জানতে চাইলে রাব্বী বলেন, তার মাকেও হত্যার চেষ্টা হয়েছিল একসময়। খুনের চেষ্টার বেশ কিছু আলামত তারা রেখে দিয়েছেন। অপহরণকারীরা ওই আলামতগুলো চায়। তাছাড়া অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে তার মা আগেই যেসব মামলা করেছেন, সেগুলো তুলে না নিলে হত্যার হুমকি দেয়।
রাব্বী নিখোঁজ হওয়ার পর মো. আলী ধানমন্ডি মডেল থানায় একটি মামলা করেন। ঐ মামলায় তিনি সন্দেহভাজন পাঁচজন অপহরণকারীর নাম উল্লেখ করেন। আরও লেখেন, অপহরণকারীদের সঙ্গে তার স্ত্রী জেমি পারভিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদ রয়েছে। বিবাদের জেরে দুই পক্ষই একে অন্যের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে। জেমি পারভিনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সিরাজগঞ্জে এবং অপহরণের অভিযোগে ঢাকায় মামলা করেছিলেন মো. আলী। জেমি পারভিনের নামেও বিরোধী পক্ষ মামলা করেছে।
জানা গেছে, রাব্বির বাবা মো. আলী পেশায় একজন ব্যবসায়ী, আর রাব্বির মা জেমি গান করেন। রাব্বী রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল থেকে এসএসসির পর বিএএফ শাহীন কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে পড়েছেন।
জানা গেছে, রাব্বির মা জেমির বিরুদ্ধে নানা ধরনের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রতারণার অভিযোগে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জেমিকে গ্রেফতার করে। জেমি নিজেকে আওয়ামী লীগের কথিত নেত্রী পরিচয় দিয়ে দেশের স্বনামধন্য মানুষদের সঙ্গে ছবি তুলে তা ফেসবুকে আপলোড করতেন। এরপর স্বনামধন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সর্ম্পক রয়েছে জানিয়ে সাধারণ মানুষসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও জিম্মি করে প্রতারণা করতেন। জেমির কথামতো না চললে এলাকার সাধারণ মানুষকে পড়তে হতো নানা মামলায়। মিথ্যা ধর্ষণ মামলাসহ হত্যা চেষ্টা ও অপহরণের মামলা হতো তাদের বিরুদ্ধে।