প্রিয় অগ্রজদের লাশ কাঁধে বেদনার্ত শিল্পী সমিতি!

 বিনোদন রিপোর্ট

 

করোনায় আক্রান্ত শিল্পী কলাকুশলীদের সংখ্যা অনেক। শোবিজ জগতের সবচেয়ে বড় মাধ্যম চলচ্চিত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন সকলেই। সবারই শেষ শবযাত্রায় এফডিসির উঠোনে আসতে হয়েছে। অধিকাংশই চলে গেছেন করোনা আক্রান্ত হয়ে। এদিকে গত ২ মাসে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে একের পর এক প্রিয় অগ্রজের লাশ কাঁধে নিয়ে বেদনায় মূর্ত শিল্পী সমিতির সদস্যরা। সম্প্রতি শিল্পী সমাজের এই ধারাবাহিক বিয়োগ সংক্রান্ত একটি ভার্চুয়াল আলোচনায় সংবাদব্যক্তিত্ব জ.ই.মামুন বলেন, ‘সত্যিই সময়টা কতটা খারাপ বলে বোঝাবার মতো নয়। একের পর এক যারা চলে গেলেন, তাদের প্রত্যেককে নিয়ে সপ্তাহব্যাপী আলোচনা সভা, শোকসভা হওয়া উচিত। তাই হয়ত করতাম আমরা। কিন্তু একজনের মৃত্যুর পরপরই আরেকজনকে হারানোর ব্যাথা নিতে হচ্ছে।’

করোনায় হারানো সাদেক বাচ্চু, কবরী, ওয়াসিম, এস এম মহসীন থেকে শুরু করে একাধিক তারকাকে হারিয়েছে ইন্ডাষ্ট্রি। তবে এই সংকটসময়ে শিল্পীদের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের সত্কার, জানাজা -দাফন বা দাহ করার কাজে সবসময় দেখভাল করেছে শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সেক্রেটারি। মিশা সওদাগর ও জায়েদ খান। জায়েদ খান বলেন, ‘এই এফডিসিই তো আমার পরিবার। কি করে ঘরে থাকি বলেন? মিশা ভাই নিজেও অসুস্থ, সম্প্রতি আমেরিকা থেকে এসেছেন তিনি। সবার জানাজা থেকে শুরু করে কবরে লাশ নামানো পর্যন্ত তিনিও ছিলেন। আমরা একেকটি পিলারকে হারাচ্ছি। এই শোক আর নিতে পারছি না। আজ কবরী আপা, ওয়াসিম ভাইয়ের মতো সুপারস্টাররা নেই। তাদের নিয়ে কয়েকদিনের আয়োজন হতো আমাদের। সেই কাজটিও করতে পারছি না। অনেকে ইচ্ছে থাকা স্বত্ত্বেও শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখতে আসতে পারেনি। অনেকেই জানাজার সময় লাইভ কল করে করে দেখতে চেয়েছে। তাদের দেখিয়েছি। আজকের এই অবস্থায় সত্যিই দিগ্বিদিক আমরা। সবারই এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটা ভীষণ জরুরি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

এদিকে মিশা সওদাগর ও জায়েদ খান সহ শিল্পীসমিতির ক’জন সদস্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে যে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন, তার জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই। মিশা সওদাগর বললেন, ‘এই সময়ে তো আমরা খবরে পড়ি পরিবারের অনেক আত্মীয়রাও কাছে আসে না। সেখানে আমি জায়েদের তত্পরতাকে সাধুবাদ না দিয়ে পারি না। আমি নিজেও অসুস্থ। তবু আমার বিবেকের একটা দায় তো রয়েছেই। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন এটুকুই চাই।’