n পরিস্থিতি অবহিত করে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিলেও প্রতিকার মেলেনি n দ্রুত সমাধানের আশ্বাস তিতাস এমডির
রিয়াদ হোসেন
শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুরের কিছু এলাকায় গ্যাসের সংকট কাটছে না। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, গত ছয় মাস ধরে সমস্যা চললেও এক মাস থেকে তা তীব্র আকার ধারণ করছে। সর্বশেষ গতকাল গাজীপুরের মাধবখোলা, শ্রীপুর, বানিয়ারচালা, ভবানিপুরসহ কিছু এলাকায় গ্যাসের চাপ নেমে এসেছে বলতে গেলে শূন্যের কোঠায়। এ পরিস্থিতিতে গ্যাসনির্ভর বড় বিনিয়োগ বিশেষত টেক্সটাইল খাতের উত্পাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সঠিক সময়ে পণ্য উত্পাদনে ব্যর্থ হয়ে বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। তারল্যসংকটের দরুন আগামী ঈদের আগে শ্রমিকের বেতন-ভাতা দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বলছেন। পরিস্থিতি তুলে ধরে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিকে বারংবার চিঠি দেওয়া হলেও প্রতিকার মেলেনি। অবশ্য তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজকের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার অনুরোধ জানিয়ে সর্বশেষ গতকাল সোমবারও টেক্সটাইল মিল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহি চৌধুরীর কাছেও চিঠি পাঠিয়েছে। এতে জানানো হয়, গাজীপুরের আলোচ্য এলাকায় সংগঠনটির সদস্যভুক্ত স্পিনিং, উইভিং, ডায়িং, প্রিন্টিং, ফিনিশিংসহ প্রায় ৬০টি কারখানা রয়েছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া ও অনিয়মিত সরবরাহের কারণে কারখানাগুলো এখন বন্ধ হওয়ার সম্মুখীন। চিঠিতে বলা হয়, গ্যাসের কম চাপের কারণে মিলগুলো উত্পাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারল্যসংকটের কারণে শ্রমিক কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-মজুরি প্রদান করতে পারবে কি না—সন্দেহ রয়েছে। এছাড়া ইউটিলিটি বিল বাবদ যে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রদান করতে হয়, তা পরিশোধে সমস্যা হতে পারে। সার্বিকভাবে এসব কারণে আগামী ঈদের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার কথাও জানানো হয়।
উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাজীপুরের আলোচ্য এলাকায় গ্যাসের সংকটে টেক্সটাইল মিলের পাশাপাশি অন্যান্য খাত মিলিয়ে শতাধিক কারখানা ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ এলাকার অন্যতম বড় টেক্সটাইল মিল মোশারফ কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশারফ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, যেখানে গ্যাসের চাপ ১৫ পিএসআই থাকার কথা, গতকাল পাওয়া গেছে মাত্র এক পিএসআই। এতদিন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ সক্ষমতায় উত্পাদনকাজ চালালেও বর্তমানে তাও সম্ভব হচ্ছে না। ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং ৮ হাজার শ্রমিকের এ গ্রুপের বড় অঙ্কের ব্যাংক ঋণও রয়েছে। প্রতি মাসে শ্রমিকের বেতন-ভাতা ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা। তীব্র গ্যাসসংকটে দিনে দিনে উত্পাদন করতে না পেরে নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কারখানা ‘সিক’ হয়ে যাচ্ছে। আমরা তো অসহায়, কোথায় যাব?
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী ইকবাল মো. নুরুল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, আগামীকালের (আজ মঙ্গলবার) মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।