মিয়ানমারে বন্দি নির্যাতনের ছবি প্রকাশ, বাড়ছে ক্ষোভ

বিবিসি ও আলজাজিরা

আটক থাকা ছয় তরুণ বিক্ষোভকারীকে নিপীড়ন করার ছবি প্রকাশ করেছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। এসব বিক্ষোভকারীর শরীরে মারাত্মক নিপীড়নের চিহ্ন দেখা গেছে। এরপরই দেশটির অভ্যুত্থানবিরোধীদের নির্যাতন এবং হত্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে একটি পর্যবেক্ষক গ্রুপ। এদিকে ইয়াঙ্গুন থেকে এক জাপানি সাংবাদিককে আটক করেছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী।

রবিবার সন্ধ্যায় মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন এমআরটিভিতে প্রকাশ করা ছবিতে চার পুরুষ ও দুই নারীর মুখ রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত দেখা গেছে। এক নারীর ফুলে যাওয়া চোয়াল এবং চোখ কালো হয়ে যেতে দেখা গেছে। পর্যবেক্ষক গ্রুপ অ্যাসিসটেন্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপিবি) এক টুইট বার্তায় বলেছে, ‘এই জান্তা সরকার নির্যাতনকে নীতি হিসেবে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পদক্ষেপ না নিলে নির্যাতন এবং মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া, স্পষ্টত অব্যাহত থাকবে।’ এএপিপি জানিয়েছে, ‘গত ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের পর নিরাপত্তা বাহিনী ৭৩৭ বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে। এছাড়া আরো তিন হাজার ২২৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রুপটি বলছে, ‘এএপিপি সব আটককৃতকে নিয়ে উদ্বিগ্ন, বিশেষ করে যাদের গোপন স্থানে রাখা হয়েছে।’

ঐ ছয় আটককৃতকে রবিবার মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনের উপশহর ইয়ানকিন থেকে আটক করা হয়। এমআরটিভির খবরে বলা হয়েছে, ঐ ছয় জন গত শনিবার বেলা ২টায় ইয়ানকিনের একটি সরকারি অফিসের বাইরে বোমা বিস্ফোরণে জড়িত। ঐ ঘটনায় তিন সরকারি সেনা আহত হয়। এর বেশি কোনো তথ্য তারা প্রকাশ করেনি।  মিয়ানমারের বেসামরিক ও সামরিক সম্পর্ক গবেষক কিম জোলিফে বলেন, মিয়ানমারের ছয় বিক্ষোভকারীর ছবি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হলো মানুষকে ভয় দেখানো। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মিয়ানমারের জান্তার কৌশল একই নীতির ওপর ভর করে, আমরা তোমাদের চেয়েও নৃশংস হতে পারি। আমরা তোমাদের চেয়ে মর্মান্তিক কষ্ট এবং ভয়াবহতা দিতে পারি। এটাই তাদের আছে। কিন্তু এর কোনো সীমা নেই।‘

এদিকে ইয়াঙ্গুনে রবিবার সন্ধ্যায় জাপানের এক সাংবাদিককে আটক করেছে জান্তা কর্তৃপক্ষ। জাপান সরকার এ খবর জানিয়ে বলেছে, আটক সাংবাদিককে মুক্ত করার চেষ্টা চলছে। ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ইয়ুকি কিতাজুমিকে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় সেনা সদস্যরা।  ঐ সাংবাদিকের বয়স চল্লিশের কোঠায় বলে জানিয়েছেন জাপান সরকারের এক মুখপাত্র। এক সংবাদ সম্মেলনে জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব কাতসুনোবু কাতো বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের কাছ থেকে তার দ্রুত মুক্তি চাই এবং আমরা জাপানের নাগরিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।’