নাসিম আলী, পিরোজপুর অফিস
পানি সংরক্ষণ ও নিরাপদ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে পিরোজপুর জেলায় ৭৬টি পুকুর সংস্কার প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পৃথক দুটি অর্থ বছরে গ্রাম ও উপজেলা সদরে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন এসব পুকুর খনন করছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে জানা গেছে, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে জেলার সাতটি উপজেলায় ৩৬টি পুকুর প্রথম দফায় সংস্কার প্রকল্পের আওতায় আনা হয়। যার বাস্তবায়ন কাজ শেষ পর্যায়ে। এ অর্থবছরে মোট ৪৬টি পুকুর প্রথমে প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছিল। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে ১০টি পুকুরের সংস্কার কাজ করা যায়নি। ঐ অর্থ বছরে মঠবাড়িয়া উপজেলায় ২১টি, ভাণ্ডারিয়ায় চারটি, কাউখালীতে দুইটি, নাজিরপুরে তিনটি, ইন্দুরকানীতে চারটি, নেছারাবাদ ও সদরে একটি করে পুকুর সংস্কারের কাজ চলছে। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে মঠবাড়িয়া উপজেলায় ২৮টি, ভাণ্ডারিয়ায় তিনটি, কাউখালীতে তিনটি, ইন্দুরকানীতে একটি, নেছারাবাদে তিনটি ও সদরে একটি পুকুর সংস্কারের কাজ সম্প্রতি শুরু হয়েছে। প্রকল্পের প্রথম বরাদ্দের (২০১৭-২০১৮ অর্থবছর) ৩৬টি পুকুরের মধ্যে পাঁচটি প্যাকেজের আওতায় ২৯টি পুকুরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় বরাদ্দের (২০১৯-২০২০ অর্থবছর) আটটি প্যাকেজের আওতায় বর্তমানে ৪০টি পুকুরের কার্যাদেশ দিয়ে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিটি পুকুরে সংস্কার বা পুনর্খননের কাজের পাশাপাশি যেসব অবকাঠামোগত কাজ করা হবে তাহলো—মাটি কেটে পাড় বাঁধানো ও কাঠের প্যালাসাইটিং স্থাপন, পুকুরের চতুর্দিকে গেটসহ কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও দেড় মিটার ওয়াকওয়ে, তিন মিটার এ্যাপ্রোচ নির্মাণ ইত্যাদি। এছাড়া পুকুর সন্নিহিত এলাকায় ১০টি বাড়িতে রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম বসানো হবে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী গাজী আব্দুল আলীম জানান, আয়তন ভেদে পুকুর প্রতি বরাদ্দ ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। তিনি আরো জানান, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে যেসব এলাকায় প্রকল্পাধীন পুকুর সংস্কার বা পুনর্খনন করা হচ্ছে তাহলো—মঠবাড়িয়া উপজেলার গুলিশাখালী, সাপলেজা, আমড়াগাছিয়া, মিরুখালী, বড় মাছুয়া, দাউদখালী, মঠবাড়িয়া সদর, বেতমোড়, ধানীসাফা ও টিকিকাটা। ভাণ্ডারিয়া উপজেলার নদমূলা ও তেলিখালী। কাউখালী উপজেলার চিড়াপাড়া-পারসাতুরিয়া, শিয়ালকাঠি ও সয়না-রঘুনাথপুর। ইন্দুরকানীর বালিপাড়া এবং নেছারাবাদের সোহাগদল, সমুদয়কাঠি ও সুটিয়াকাঠি ইউনিয়ন। নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, পিরোজপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষত মঠবাড়িয়া এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন করে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার সম্ভব না হওয়ায় পুকুর খনন প্রকল্পের ৭৬টি পুকুরের মধ্যে ৪৯টিই এ উপজেলার।
পিরোজপুর জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেবেকা খান জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জেলা পরিষদের এই পুকুর সমূহ সংস্কারের দায়িত্ব জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকে দেওয়া হয়েছে। তবে পুকুরসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ করবে জেলা পরিষদ।