বরিশাল সদর হাসপাতালের সামনের ফার্মেসিগুলো ডায়রিয়া রোগীদের জিম্মি করে পুশ স্যালাইন বেশি দামে বিক্রি করছে। অথচ হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন রয়েছে। প্রত্যেক রোগীকে কমপক্ষে তিন থেকে চারটি, কেউ বেশি অসুস্থ হলে তাকে আরো বেশি স্যালাইন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মেডিক্যাল অফিসার।
এই হাসপাতালে নির্ধারিত বেডের চেয়ে ৮ থেকে ১০ গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকে। এর ফায়দা লুটছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ৯৬ জন ডায়ারিয়া রোগী ভর্তি ছিলেন। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেককে মাঠে, কাউকে ভ্যানে, গাছ তলায় বা ড্রেনের পাশে চিকিত্সা নিতে দেখা গেছে। অথচ এসব রোগীদের বরাদ্দকৃত স্যালাইন না দিয়ে বাইরে থেকে কিনে আনার পরামর্শ দিচ্ছেন দায়িত্বরত নার্সরা।
চিকিত্সাধীন বরিশাল সদর উপজেলার জাগুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুর রব জানান, ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বরিশাল জেনারেল (সদর) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন রবিবার। হাসপাতালে জায়গা না পাওয়ায় চিকিত্সা নিচ্ছেন হাসপাতালের সামনের মাঠে শুয়ে। ভ্যান চালক আব্দুর রবের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে একটা স্যালাইন দিয়েছে শরীরে পুশ করা জন্য। তারপর স্যালাইন শেষ হওয়ার পর নার্সের কাছে স্যালাইন চাওয়া হয়েছে, কিন্তু তারা বলে এখানে স্যালাইন নেই। ফার্মেসি থেকে কিনে আনেন। সরকারি হাসপাতালে যদি স্যালাইন না থাকে তাহলে আমাদের মতো গরীব মানুষ কেমনে চিকিত্সা নেবে?। পরে তিনি বেশি দামে ফার্মেসি থেকে স্যালাইন কিনে আনেন।
সরেজমিন গতকাল সোমবার সকালে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে। প্রায় সকল রোগীর অভিযোগ স্যালাইন পাচ্ছেন না তারা। অতিরিক্ত দাম দিয়ে কিনে আনতে হয় বাইরে থেকে।
হাসপাতালের সামনের ফার্মেসিগুলো সিন্ডিকেট করে ৯০ টাকার স্যালাইন বিক্রি করছে ১২০ থেকে ২০০ টাকায়। আর বাধ্য হয়ে তা কিনতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের। তাদের সঙ্গেই যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে হাসপাতাল স্টাফদেরও। যে কারণে স্যালাইন থাকলেও না থাকার কথা বলে সামনের ফার্মেসি থেকে কিনতে বলা হচ্ছে।