নর্থ সাউথ শিক্ষার্থী অপহরণের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পায়নি পুলিশ

রাজধানীর ধানমন্ডির ২৭ নম্বর ৩১৬/বি, কনকর্ড টাওয়ারের বাসায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ভিড়। কেউ পোশাকে, কেউ সাদা পোশাকে আসছেন। তাদের সবার দৃষ্টি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাব্বী হোসেন শুভর দিকে। তারা শুভর কাছ থেকে জানার চেষ্টা করেন যে, কীভাবে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। অপহরণের পর কারা তাকে নির্যাতন করেছিল। ঘটনা তদন্ত সংশ্লিষ্ট ধানমন্ডি থানার একজন পুলিশ সদস্য জানান, ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ঘটনাটি সাজানো হয়েছে, নাকি সত্যি সত্যি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে—তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট ধারণা পায়নি পুলিশ। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে শুভ জানিয়েছেন, ‘অপহরণকারীরা তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরে অসংখ্য জখম করেছে। তবে চোখ বাঁধা থাকায় তিনি অপহরণকারী কাউকে চিনতে পারেননি।’

গতকাল শুভর বাবা মোহাম্মদ আলী বলেন, সিরাজগঞ্জের উল্ল­াপাড়া থানার ঝিকিড়ায় তাদের পারিবারিক সম্পত্তি ও একটি দোতলা বাড়ি দখল করতে না পেরে একদল লোক গত ২০ মার্চ রাত ১২টার দিকে আমার ছেলেকে একটি মাইক্রোবাসযোগে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর ২৫ দিন আটকে রেখে তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়।

মো. আলী আরো দাবি করেন, সবকিছু বিবেচনা করে তার মনে হয়েছে, অপহরণকারীরা তার নিকটাত্মীয়। মুলত গ্রামের বাড়ির সম্পত্তি দখল করতে না পেরে তার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ করে নির্যাতন করেছে তারা। এরা সংঘবদ্ধ একটি চক্র।

এ বিষয়ে ধানমন্ডি থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া বলেন, পারিবারিক ও জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ঐ ছাত্রকে (রাব্বী) অপহরণের পর নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সন্দেহভাজন পাঁচ জন অপহরণকারীর নামোল্লে­খ করে রাব্বীর বাবা একটি মামলা করেছেন। এই মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য তদন্ত চলছে।