>> সাইফুল ইসলাম
বিশ্ব যখন কোভিড-১৯ পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে ঠিক তখন সিলেটের এক উদ্যোক্তার তৈরি করা অ্যাপ আশার বাণী নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। সিলেটের সন্তান সৈয়দ রেজওয়ানুল হকের তৈরি করা SLMS.APP দিয়ে ১০ হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থীর ক্লাশ, ক্লাস টেস্ট নেওয়া হয়েছে দেশের ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এরমধ্যে রয়েছে এইচএসসি প্রথম বর্ষের পরীক্ষা, প্রি-টেস্ট, টেস্ট, অনার্স ও ডিগ্রির ইন-কোর্স পরীক্ষা। এ প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীরা জানান, অ্যাপ্লিকেশনটি তাদের এই দুর্যোগেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে খুব সহযোগিতা করেছে। কম্পিউটার সায়েন্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা পজেটিভ বাংলাদেশের এই তারকা বলেন, ‘কোভিডের পরেই আমাদের আইডিয়াটি বেশ সাড়া পেলো। এটি একটি অনলাইন ক্লাস, কন্টিনিউয়াস এসেসমেন্ট/ ক্লাস টেস্ট, এমসিকিউ পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট নেওয়ার অনলাইন সফটওয়্যার সল্যুশন। এতে ছাত্র-ছাত্রীদের সাইন আপ এবং লগইন করার সুবিধা রয়েছে। তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব ড্যাশবোর্ড আছে; যেখানে তারা আজকের ক্লাস, পরীক্ষা, ক্লাস টেস্ট, অ্যাসাইনমেন্ট দিতে পারে। আমরা ইউটিউব লাইভ এবং রেকর্ডেড ক্লাসের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের ড্যাশবোর্ডে শিডিউল অনুযায়ী দেখাচ্ছি। সবার জন্য ভিন্ন ভিন্ন সেট এ র্যান্ডমলি প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে এমসিকিউ টাইপের পরীক্ষা নেওয়ার সুবিধাও রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ডাইনামিক ওয়েবসাইট তৈরি করা এবং অনলাইনে ভর্তিও সফটওয়্যারটি দিয়ে করা যায় সহজেই।’
সৈয়দ রেজওয়ানুল হকের প্রতিষ্ঠানে ২২ জন কর্মী কাজ করছেন। তিনটি এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন অ্যাপটি বর্তমানে ব্যবহার করছে। সেইসঙ্গে বেসিস, ই-ক্যাবসহ বিশ্বজুড়ে ১২০টি দেশের ১১ হাজার প্রতিষ্ঠান এটি ব্যবহার করছে।
তিনি বলেন,‘আমরা এগিয়ে যেতে চাই স্বপ্নের সোপানে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন আমাদের আইটি উদ্যোক্তাদের জন্য। কারণ হচ্ছে, আমরাও যেন সরকারের উন্নয়নমুখী কাজের সঙ্গী হতে পারি।’