শাহজাদপুরে যমুনা নদীর তীররক্ষা বাঁধে ধস

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা

শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদী তীররক্ষা বাঁধের একাধিক স্থানে এক সপ্তাহ ধরে সিসি ব্লক ধসে পড়ছে। এখনই এর ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে তীররক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিবে এমন আশঙ্কা যমুনা পাড়ের মানুষের। স্থানীয়রা জানান, এ মুহূর্তে জিও ব্যাগ/বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানো যেতে পারে।

সরজমিন ঘুরে জানা গেছে, এক সপ্তাহ ধরে বাঁধটির উপজেলার গালা ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের একাধিক স্থানে হঠাত্ করেই সিসি ব্লক দেবে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে। এসব স্থানে পানির গভীরতা প্রায় ৪০/৪৫ ফুট। জানা গেছে, গ্রামটির পূর্ব পাশে যমুনা নদীর বুক জুড়ে বিশাল চর জেগে ওঠায় যমুনা নদীপ্রবাহের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে শুষ্ক মৌসুমে কাশিপুর গ্রামে আঘাত হানছে। ফলে কাশিপুর গ্রামসংলগ্ন যমুনা নদীর তীররক্ষা বাঁধের যে স্থানগুলোতে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে সেখানে যমুনার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে ভাঙনের কবলে পড়বে। ফলে কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাশিপুরের পুরাতন জামে মসজিদ, বিশাল কবরস্থান বিলীন হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পাশের গর্জোনা, হাড়িয়াকান্দা, গালা ও মারজান গ্রাম।

কাশিপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য খোদাবক্স আহম্মেদের ছেলে বদিউজ্জামান, জামিরতা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আবুল কালাম ও সাবেক ইউপি সদস্য সোলায়মান হোসেন জানান, তাদের এলাকার যমুনা তীররক্ষা বাঁধে অনেক স্থানে সিসি ব্লকসহ দেবে যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে বিকালে হঠাত্ করে ঘূর্ণিবর্তে দেবে যায় যমুনার তীররক্ষা বাঁধ। যমুনা নদীর এমন আচরণ দেখে সবাই ভয় পেয়ে যাই। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, যমুনার তীর ঘেঁষে শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু তোলায় সিসি ব্লকের নিচ থেকে বালু ও জিও ব্যাগ সরে গিয়ে বাঁধের বিভিন্ন অংশ হঠাত্ করে দেবে গভীর খাদের সৃষ্টি হচ্ছে।

 এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড পাবনা কৈটোলা নির্মাণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আব্দুল হামিদ জানান, যমুনা নদীর তীররক্ষা বাঁধের যে সব স্থানে ধস দেখা দিয়েছে, বর্ষার আগে সে স্থানগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা হবে। এছাড়া, যারা যমুনা তীরবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু কাটছে, তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।