বান্দরবান প্রতিনিধি
বান্দরবানে পাহাড় কাটা বন্ধ হচ্ছে না। এক্সকাভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাহাড় কাটায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে প্রাণহানির পরও থামানো যাচ্ছে না পাহাড় কাটা। জেলা সদরের কালাঘাটা-ছাইঙ্গা সড়কের পার্শ্ববর্তী আজুগুহা এলাকায় কয়েক দিন ধরে প্রকাশ্যেই কাটা হচ্ছে পাহাড়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একটানা পাহাড় কেটে ছয়-সাতটি ডাম্পার ট্রাকযোগে পাহাড়ের মাটিগুলো অন্যত্র জমি ভরাটের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ধুলায় নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে স্থানীয়দের।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, বান্দরবান সদরের কালাঘাটা-ছাইঙ্গা সড়কের পার্শ্ববর্তী আজুগুহা এলাকায় এক্সকাভেটর দিয়ে বিশাল একটি পাহাড় কাটা হচ্ছে। পাহাড়ের কাটা মাটি ছয়-সাতটি ডাম্পার ট্রাকে ভরাটের জন্য নেওয়া হচ্ছে রামজাদী এলাকায় রাস্তার পাশের জমিতে। ইতিপূর্বে রামজাদী বেইলি ব্রিজসংলগ্ন এলাকা, কালাঘাটা নোয়াপাড়া, তুমব্রুপাড়া এলাকায়ও এক্সকাভেটর দিয়ে আরো কয়েকটি বিশাল পাহাড় কাটা হয়েছে। গত রবিবার প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমিত রায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহূত একটি এক্সকাভেটর জব্দ করেন। এ সময় পাহাড় কাটার অপরাধে মো. ইয়াছিনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা থোয়াইনু মারমা, লাগ্যচিংসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, ‘পাহাড় কাটার ফলে ধুলাবালুতে বাসায় থাকা যাচ্ছে না। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, চোখ-নাক সব ব্যথা করছে ধুলায়। এই অঞ্চলে বর্ষাকালে পাহাড় ধসে প্রতি বছর মানুষ মারা গেলেও পাহাড় কাটা বন্ধ করা যাচ্ছে না।’
পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের পরিদর্শক আব্দুস সালাম বলেন, ‘পাহাড় কাটার কোনো অনুমোদন নেই। কালাঘাটা, রামজাদী, আজুগুহা এলাকায় পাহাড় কাটার খবর পেয়েছি। কয়েকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি মামলার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি জানান, পাহাড় কাটা আইনগত অপরাধ। পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির খবর পেয়ে প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এক জনকে জরিমানা করেছে। পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছে প্রশাসন। অভিযোগ পেলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।