হোমনায় গরুর হাটে মানা হচ্ছে না বিধিনিষেধ!

হোমনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

কোভিড-১৯-এর বিস্তার রোধে সারা দেশে চলমান বিধিনিষেধের মধ্যেও থামছে না গণজমায়েত। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তত্পরতার মধ্যেই উপজেলার ঘারমোড়া বাজারে বসেছে গরুর হাট। আসছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। নেই স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই। একে অপরের সঙ্গে গা-ঘেঁষাঘেঁষি করে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। স্থানীয়রা জানায়, বাজারটি পরিচালনা করছেন ঘারমোড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান। 

কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয়ের নির্দেশনা থাকলেও ঘারমোড়া বাজারে সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সকাল থেকেই সন্ধ্যা পর্যন্ত বসানো হয়েছে সাপ্তাহিক গরুর হাট। সরেজমিনে ঘারমোড়া বাজারে দেখা যায়, বাজারে ট্রাক, সিএনজি, অটোরিকশার তীব্র যনজট। হোমনা-মুরাদনগর সড়কের দুইপাশে নানা দ্রব্যাদি নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসে আছেন দোকানিরা। গায়ে গায়ে লেপ্টে কেনাকাটা করছেন মানুষ। গরুর বাজারে ঢুকতেই চোখে পড়ে ইজারাদারদের কাউন্টার থেকে গাদাগাদি করে গরুর হাসিল কাটছেন ক্রেতারা।

সরকারের নিদের্শনা উপেক্ষা করে জনসমাগম ঘটিয়ে গরুর হাট বসানো প্রসঙ্গে ঘারমোড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বাজারের ইজারাদার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সারা বাংলাদেশেই গরুর হাট বসছে। আমবাড়ি, দিনাজপুর, সিলেটে বাজার চলতেছে খবর লইয়া দেখেন। আমরা বাংলাদেশের মধ্যে না? পালটা প্রশ্ন রেখে কথা শেষ করেন তিনি।’ এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমন দে বলেন, গণজমায়েত হচ্ছে খবর পাওয়া মাত্র আমি তাকে ফোন করেছিলাম। তিনি ফোন রিসিভ করনেনি। আমরা সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। আমরা ঐ বাজার বন্ধ করে দেব।

পুলিশ এলে মাস্ক ওঠে নাকের ডগায়

মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, পুলিশ এলে মাস্ক উঠে নাকের ডগায় আর দোকানের শাটার নামে নিচে। চলমান বিধিনিষেধে মনোহরগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে এমন চিত্র। করোনা সংক্রমণ এড়াতে নিজে সচেতন না হয়ে বরং পুলিশের ভয়ে মাস্ক পরতে দেখা গেছে অধিকাংশ মানুষকে। কিছু কিছু জায়গায় নিয়ম না মেনে ব্যবসায়ীরা পুলিশকে পাহারা দিয়ে খুলছেন দোকান,  পুলিশ দেখলেই নামিয়ে দিচ্ছেন দোকানের শাটার। এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুল কবির জানান, সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে পুলিশ কঠোর হলেও জনসাধারণের মধ্যে এখনো সৃষ্টি হয়নি সচেতনতা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারীদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হবে।