নিম্ন আয়ের মানুষের কথা ভাবতে হবে

লকডাউন নিয়ে কথা হয় কুমিল্লার একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সঙ্গে। ভদ্রলোকের ব্যবসার পুঁজি পুরোটাই ক্ষুদ্রঋণ বা কিস্তিনির্ভর। মাসে দশ হাজার টাকা কিস্তি তাঁর। লকডাউনের ঘোষণা আসায় তিনি উদ্বিগ্ন, ‘'সবকিছুর ক্ষমা আছে, কিস্তির ক্ষমা নেই’। সম্প্রতি বিবিসি বাংলা লকডাউন নিয়ে খুদে এক ব্যবসায়ীর সাক্ষাত্ নেয়। ব্যবসায়ীর ভাষ্য, ‘গরিবের করোনা হয় না!’ কথাটা খামখেয়ালিপূর্ণ মনে হতে পারে। কিন্তু কতটা অসহায় হলে মানুষ মৃত্যুর চেয়ে ক্ষুধাটাকেই প্রাধান্য দেয়? দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠীকে প্রতিদিনের খাবারের জন্য প্রতিদিন কাজ করতে হয়। এই মানুষগুলোই বলে—গরিবের করোনা হয় না। করোনা মহামারি ঠেকাতে উন্নত দেশগুলো সহজেই লকডাউনে যেতে পারে তাদের মজবুত অর্থনৈতিক সক্ষমতার জন্য। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। দেশের বড় একটা অংশ নিম্নবিত্ত। তাই করোনা মোকাবিলায় উন্নত দেশসমূহকে অনুসরণের চেয়ে বিকল্প ভাবতে হবে। কেননা দীর্ঘকালীন লকডাউন অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে ভেঙে দেবে। তখন করোনার মতো ভয়াবহ হয়ে উঠবে দারিদ্র্য। তাই লকডাউনে নিম্নবিত্তদের নিয়ে ভাবতে হবে। প্রয়োজনে লকডাউন শিথিল করে, করোনা সচেতনতার প্রতি কঠোর হওয়া যেতে পারে। যা অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও করোনা থেকে মুক্তি—দুটোই এনে দেবে।

মোহাম্মদ শরীফ

শিক্ষার্থী, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ,

কুমিল্ল­া