বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন এবং নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। এত বড় নিয়োগ কার্যক্রম নিঃসন্দেহে বেকারদের জন্য বিরাট এক আশীর্বাদ। তবে নিয়োগ কার্যক্রমে এনটিআরসিএ-এর গৃহীত কিছু সিদ্ধান্তে নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অনেক মেধাবীকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। যা এনটিআরসিএ-এর প্রধান উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিকও বটে। উল্লেখ্য, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ১৩তম ব্যাচে উত্তীর্ণ ২২০৭ জনের পদ সংরক্ষিত, প্রতিযোগিতা ছাড়াই একক নিয়োগের জন্য। কারণ এদের ব্যাপারে মহামান্য সুপ্রিমকোর্টের আপিল ডিভিশনের রায়ে উল্লেখ আছে বিজ্ঞপ্তিতে। প্রশ্ন হচ্ছে, ১৩তম ব্যাচের ২২০৭ জন একক নিয়োগ পেলে বাকিরা কেন পাবে না? একই পরিপত্র ও নিবন্ধন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উত্তীর্ণ ১৪তম যারা নিয়োগ প্রত্যাশী তারাই বা নিয়োগ পাবে না কেন? ১৫তমরাই বা কেন বঞ্চিত হবে? তাদেরকে তো শূন্যপদের বিপরীতে উত্তীর্ণ করা হয়েছে।
১৩তম ব্যাচে উত্তীর্ণ সবাই ১৩তম ব্যাচ; অথচ একটা অংশ সরাসরি নিয়োগ পাবে আর বৃহত্তর একটা অংশ ভালো নম্বর থাকা সত্ত্বেও গণবিজ্ঞপ্তিতে মেধা তালিকার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা করে আবেদন করতে হচ্ছে। একই প্রতিষ্ঠানে একই ব্যাচের ক্ষেত্রে দুই রকম নিয়োগ প্রক্রিয়া চলবে! নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই দ্বৈত নীতি মেনে নেওয়ার মতো না।
অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ১৫তম ব্যাচের কলেজ পর্যায়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আবেদন করার মতো যথেষ্ট শূন্যপদ পাচ্ছে না। অথচ তাদেরকে উত্তীর্ণ করা হয়েছে শূন্যপদের বিপরীতেই। বেকারদের সময়, শ্রম ও মেধার কি মূল্য নাই এনটিআরসিএ-র কাছে? কোনো কোনো বিষয়ে ৮০-৮৫ নম্বর থাকা সত্ত্বেও চাকরি তো দূরের কথা, এমপিও পদে আবেদন করার মতো শূন্যপদ পাচ্ছে না। যা সত্যিই দুঃখজনক, অমানবিক ও অন্যায়ও বটে। অথচ এনটিআরসিএ-র গৃহীত সিদ্ধান্তমতে ৪০-৪২ নম্বর পেয়েও একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরাসরি নিয়োগ পেতে যাচ্ছে—আমরা এর প্রতিকার চাই।
দীর্ঘদিন মামলাসংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে বর্তমান সুদক্ষ চেয়ারম্যান মহোদয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পথকে সুগম করেছেন, যার জন্য লাখো নিবন্ধনধারী চির কৃতজ্ঞ। মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, মেধাবীদের বঞ্চিত না করে সংরক্ষিত শূন্যপদ উন্মুক্ত করে আবেদনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।
সামশুন্নাহার সাইমুন
১৫তম নিবন্ধন উত্তীর্ণ (কলেজ),
পাইকপাড়া, মিরপুর, ঢাকা