ভারত সরকার ঘোষণা করেছে খোলাবাজারে করোনার ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। গতকাল বুধবার এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির। মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি বলেছেন, খোলাবাজারে ওষুধ কোথায়? এতে তো টিকার কালোবাজারি শুরু হবে। দেশের গরিবরা ভ্যাকসিন পাবেই না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী এখন গা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।
ভারতে করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। এদিনই আক্রান্ত হয়েছেন ভারতের নির্বাচন কমিশনার এবং ডেপুটি কমিশনার। পশ্চিমবঙ্গেও করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে মমতা বলেন, শেষ দুই দফার ভোটগ্রহণ অন্তত একসঙ্গে করা হোক। প্রয়োজনে কোনো দলই প্রচার করবে না। এতে মানুষ বাঁচবে।
মমতা বলেন, নির্বাচন কমিশনার আক্রান্ত। আরেক জন কমিশনারও আক্রান্ত হয়েছেন। তারা তো বাড়িতে বসে কাজ করবেন। তার মানে কাজ তো বিজেপির কথায় হবে। আজ প্রধানমন্ত্রী (নরেন্দ্র মোদি) করোনা নিয়ে নানা কথা বলছেন। ভ্যাকসিন বাজার থেকে কিনে নিতে বলছেন। আমি ২৪ ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে বলেছিলাম, টিকা কেনার ক্ষমতা রাজ্যদের দেওয়া হোক। চিঠির কোনো উত্তর দেননি। এখন গা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। দেশের মানুষ টিকা পাচ্ছেন না। অথচ আমাদের প্রধানমন্ত্রী ৬৪ শতাংশ টিকা বিদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। বিদেশের মানুষের কাছে নেতা হতে চাইছেন। দেশের মানুষ যে টিকা না পেয়ে অসহায় অবস্থায় মারা যাচ্ছেন তার খেয়াল নেই। মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব, দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গে টিকার হাহাকার চলছে। কোনো গুরুত্ব নেই। এখন বলছেন, খোলাবাজার থেকে কিনতে হবে।
মমতার অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন করতে দেড় লাখ বহিরাগত পুলিশ এসেছে। বিজেপির ১ লাখ বহিরাগত ক্যাডার ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে বিজেপির বহু মন্ত্রী, নেতারা আসছেন। সভা, রোড শো করে করোনা ছড়িয়ে যাচ্ছেন। ভোট শেষ হবার পর তাদের ছড়ানো অসুখ সামলাতে হবে আমাকে। প্রধানমন্ত্রী কী দায়িত্ব নেবেন?
করোনায় দুই প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় দুই আসনের ভোটের নতুন দিন ঘোষণা করা হয়েছে ১৩ মে। এ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাজ দেখুন, ১৩ বা ১৪ মে ঈদ। ১৩ মে জঙ্গিপুর আর সামশেরগঞ্জের ভোটগ্রহণের দিন ঘোষণা করে দিল। কমিশনের ক্যালেন্ডারে কী ঈদের ছুটি নেই? তবুও ঐ দুই বিধানসভার মানুষদের বলব, কষ্ট হলেও ভোট দিতে যাবেন। এভাবে আমাদেরকে রুখতে পারবে না।
মমতা বলেন, বিজেপি পরিচালিত সরকার যখন এনআরসি করতে যাচ্ছে তখন আমিই প্রথম প্রতিবাদ করেছিলাম। দিল্লিতে তারা শত শত মানুষ মেরেছে। উত্তরপ্রদেশে একনাগাড়ে অত্যাচার করেছে। আসামে ১৪ লাখ মানুষ বাতিল। ওখানে গত ৬ এপ্রিল ভোট হয়েছে। আর ৮ এপ্রিল নোটিশ জারি করে ডিটেনশন ক্যাম্পে যাবার নির্দেশ দিয়েছে। তাদের কথায় ভুলবেন না।