ফরিদপুরের সালথায় গত ৫ এপ্রিল রাতে নজিরবিহীন সহিংস তাণ্ডবের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ওয়াহিদুজ্জামানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে ডিবি পুলিশের একটি দল ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাই মোল্লার ছেলে ওয়াহিদুজ্জামান ২০১৪ সালে বিএনপির সমর্থনে সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালে তিনি ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা, সালথা) আসনের সাংসদ ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ঐ অনুষ্ঠানে ওয়াহিদুজ্জামানের বাহিনীর হাতে প্রহূত ও লাঞ্ছিত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসন।
ওয়াহিদুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, সালথায় সরকারি অফিসে তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া সাত আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঐ জবানবন্দিতে ওয়াহিদুজ্জামানের নাম উঠে আসায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় ৩৬৪ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করে সালথা থানায় মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয়েছে আরো ৪ হাজার জনকে। এসব মামলায় গতকাল পর্যন্ত ৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রসঙ্গত, লকডাউনকে কেন্দ্র করে এবং নানাবিধ গুজব ছড়িয়ে গত ৫ এপ্রিল উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন সরকারি অফিসে তাণ্ডব চালায় কয়েক হাজার উত্তেজিত জনতা। এ সময় দুটি সরকারি গাড়িসহ কয়েকটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় তারা। এতে প্রায় আড়াই কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস হয়। দুই জন আসামি গুলিবিদ্ধ হয়ে পুলিশ প্রহরায় চিকিত্সাধীন রয়েছেন। অপর দুই জন গুলিতে নিহত হন।