খোশ আমদেদ মাহে রমজান

আজ ১৪৪২ হিজরির অষ্টম রমজানুল মোবারক অতিবাহিত হচ্ছে। নুজুলে কোরআনের মাস হলো পবিত্র মাহে রমজান। ঐ কারণেই মাহে রমজানের সঙ্গে রয়েছে মহাপবিত্র আল কোরআনের সুনিবিড় সম্পর্ক। মহান আল্লাহপাক পবিত্র রমজান মাসের লাইলাতুল কদরের রাত্রিতেই লাওহে মাহফুজ থেকে আখেরি নবি, হজরত মোহাম্মদুর রসুলুল্লাহ (স.)-এর ওপর অবতীর্ণ করেন সমগ্র বিশ্ব মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহর আসমানি সংবিধান মহাপবিত্র আল-কোরআন। আল্লাহপাক রব্বুল আলামিন ইলমে ফাছাহাত ও ইলমে বালাগতের অলংকারশাস্ত্র দিয়ে আল-কোরআনের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি আয়াত ও সুরাসমূহকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে ফেরেশতা হজরত জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে বিশ্বনবি হজরত মোহাম্মদ (স.)-এর            ওপর অবতীর্ণ করেন। মানুষ যে রকম সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য শরীরে সোনার ও ডায়মন্ডের অলংকার পরে, ঠিক তদ্রূপ মহান আল্লাহপাক রব্বুল আলামিন তার লাওহে মাহফুজের সোনা, ডায়মন্ড, জহরত ও মণি-মুক্তা দিয়ে আল-কোরআনের প্রতিটি হরফ ও আয়াতকে তার কুদরতের শক্তির চমক দিয়ে নিরেট ও নিখুঁতভাবে সাজিয়ে লাওহে মাহফুজের অলংকার দ্বারা সৌন্দর্য বর্ধন করে পিয়ারা হাবিব রসুলে করিম (স.)-এর ওপর নাজিল করেন।

রসুল (স.)-এর মক্কিজীবনে আল-কোরআনের যতটা সুরা নাজিল হয়েছে, সেই সুরাগুলোকে সুরায়ে মাক্কি বলা হয়। আর রসুল (স.)-এর মদিনায় হিজরতের পর যেসব সুরা আল্লাহপাক নাজিল করেছেন, সেই সব সুরাকে সুরায়ে মাদানি বলা হয়। রমজান মাস হলো বেশি বেশি করে আল-কোরআন তিলাওয়াতের মাস। আল্লাহর জিকিরের মধ্যে সবচেয়ে উওম জিকির হলো আল-কোরআন তিলাওয়াত। হজরত ইমাম আবু হানিফা (রহ.) রমজান মাসে দিনে এক খতম কোরআন তিলাওয়াত করতেন এবং রাতের বেলা এক খতম কোরআন তিলাওয়াত করতেন। মহান আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন, শাহরু রামাজানাল্লাজি উনজিলা ফিহিল কোরআন। হুদাল্লিন্নাছি ওয়া বাইয়িনাতিম মিনাল হুদা ওয়াল ফুরকান। অর্থাত্, রমজান এই সেই মাস, যে মাসে অবতীর্ণ করা হয়েছে মহাপবিত্র আল-কোরআন। যাতে রয়েছে মানবজাতির জন্য সঠিক পথের সন্ধান এবং হেদায়াতের জন্য সুস্পষ্ট পরিষ্কার বয়ান। এবং সত্যাসত্যের মাঝখানে পার্থক্য নির্ণয়কারী কিতাব আল-কোরআন। (সুরা বাকারা) পবিত্র আল-কোরআন তিলাওয়াতের সময় আমাদের কোরআন শরিফের সম্মান ও আদবের দিকে খেয়াল রাখা খুবই অপরিহার্য। প্রথম যেটা খেয়াল রাখা খুবই জরুরি, যেমন—লা ইয়ামাছছুহু ইল্লাল মুতাহ্হারুণ। অর্থাত্, পাক-পবিত্রতা ছাড়া কোরআন স্পর্শ করা যাবে না। অজুু ছাড়া আল-কোরআন স্পর্শ করা যাবে না।

বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তির যুগে মানুষ মোবাইল ফোনে আল-কোরআন তিলাওয়াত করে থাকে। ঐ সময় অজু অবস্থায় আল কোরআন তিলাওয়াত করা খুবই অপরিহার্য। তবে যে কোনো ভাষায় আল-কোরআনের অনুবাদ পবিত্রতা বা অজু ছাড়া পড়া যাবে। কিন্তু মূল আরবি আল-কোরআনুল করিমকে অজু বা পবিত্রতা ছাড়া স্পর্শ করা যাবে না। দুই হলো, ওরাত্তিলিল কোরআনা তারতিলা, অর্থাত্ পবিত্র আল-কোরআনকে ধীরে ধীরে আবৃত্তি করো। অতএব, কোরআন শরিফকে তারতিলের সহিত সহিহ-শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করা উচিত। মহান আল্লাহপাক পবিত্র রমজান মাসে সহিহ-শুদ্ধভাবে আল-কোরআনের অর্থসহ আমাদের বেশি বেশি করে কোরআন শরিফ তিলাওয়াত করার তাওফিক দান করেন। কেননা, আল-কোরআনের আলিফ, লাম, মিম থেকে শুরু করে মিনাল জিন্নাতি ওয়ান নাছ পর্যন্ত আল্লাহর মুমিন বান্দাদের জন্য রয়েছে শিফা। অর্থাত্, আল-কোরআনই হলো করোনা ভাইরাস থেকে শুরু করে মানবজাতির রুহানি এবং জিছমানি সব রোগের মহা মেডিসিন। আল্লাহপাক আমাদের সবার সহায় হোন। আমিন।

লেখক :অতিথি অনুবাদক, মক্কা আল মুকাররামাহ ও সাবেক খতিব, জাতীয় সংসদ জামে মসজিদ, ঢাকা